বিস্ময়কর অগ্রযাত্রায়

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা

ডিজিটাল আর্কাইভে স্বাগতম

"ঠাকুরগাঁও সদর" উপজেলার উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রা

গত ১৫ বছরে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রা (২০০৯-২০২৪)

বিগত ১৫ বছরে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা একটি নিভৃত কৃষিভিত্তিক অঞ্চল থেকে আধুনিক সুবিধাসম্পন্ন একটি অগ্রসরমান জনপদে রূপান্তরিত হয়েছে। ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন খাতে এই উপজেলার আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের প্রামাণ্যচিত্র নিচে তুলে ধরা হলো:

১. ঠাকুরগাঁও সদর কৃষিখাতে আধুনিকায়ন ও নীরব বিপ্লব:

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার অর্থনীতির মূল ভিত্তি হলো কৃষি, যার ওপর ৬৫.০৭% মানুষ নির্ভরশীল। ২০০৫-২০০৮ সময়কালে এই অঞ্চলে শস্যের নিবিড়তা ছিল ২৩২%, যা বর্তমান সময়ে (২০২৩-২০২৪) বেড়ে ২৬৯%-এ উন্নীত হয়েছে।

কৃষকদের প্রাতিষ্ঠানিক অর্থনীতির সাথে যুক্ত করতে এই ১৫ বছরে ২ লাখ ৭৮ হাজার ২৬১ জন কৃষককে কৃষি সহায়তা কার্ড প্রদান করা হয়েছে এবং ১ লাখ ৪৪ হাজার ১১৭ জন কৃষক মাত্র ১০ টাকায় ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার সুবিধা পেয়েছেন। এই সময়ে ১ লাখ ৮৫০ জন কৃষককে বিভিন্ন কৃষি প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া চা চাষে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে; বর্তমানে জেলায় ১,৪৫৭ একর জমিতে চা চাষ হচ্ছে যা থেকে বছরে প্রায় ৪০ কোটি টাকা আয় হচ্ছে এবং ৩ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে।

২.ঠাকুরগাঁও সদর শতভাগ বিদ্যুতায়ন ও জ্বালানি খাতের যুগান্তকারী উন্নয়ন:

২০০৬ সালে ঠাকুরগাঁওয়ে বিদ্যুৎ গ্রাহক ছিলেন মাত্র ৯১,১১২ জন, যা এই সরকারের আমলে বেড়ে বর্তমানে ৪ লাখ ১৮ হাজার ৯১ জনে দাঁড়িয়েছে এবং উপজেলাটি শতভাগ বিদ্যুতায়নের আওতায় এসেছে।

শিল্পায়ন ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে ২০২২ সালে সদরের জগন্নাথপুর ইউনিয়নের গৌরীপুরে ‘ইপিভি ঠাকুরগাঁও লিমিটেড’ নামে একটি ১৩২ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপিত হয়েছে।

বর্তমানে এই কেন্দ্র থেকে ১০৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে, যা সমগ্র জেলার ১১৪ মেগাওয়াটের চাহিদার প্রায় পুরোটাই মেটাতে সক্ষম।

৩. শিক্ষা খাতে ডিজিটাল রূপান্তর ও অবকাঠামো বৃদ্ধি: ২০০৬-২০০৮ সালের পরিসংখ্যানে এই উপজেলায় মাল্টিমিডিয়া ও স্মার্ট ক্লাসরুমের সংখ্যা ছিল শূন্য, কিন্তু বর্তমানে এখানে ৬৪৩টি মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম এবং ১৩১টি ডিজিটাল স্মার্ট ক্লাসরুম স্থাপন করা হয়েছে।

উপবৃত্তি সুবিধা ৫% থেকে বাড়িয়ে ১০০% করায় শিক্ষার্থীদের স্কুল থেকে ঝরে পড়ার (Dropout) হার ১৮.৭৭% থেকে কমে মাত্র ২.৬%-এ নেমে এসেছে। উচ্চশিক্ষার জন্য ‘এম ওয়াজেদ মিয়া ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ’ স্থাপন করা হয়েছে।

৪. যোগাযোগ ব্যবস্থা ও মেগাপ্রকল্প: এই ১৫ বছরে এলজিইডি (LGED)-এর মাধ্যমে উপজেলায় ১,১৫৫ কিলোমিটার নতুন পাকা রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে।

যোগাযোগ ব্যবস্থায় গতি আনতে এশিয়ান হাইওয়ে-২ এর অংশ হিসেবে ৩৩ কিলোমিটার রাস্তা প্রশস্ত করা হয়েছে এবং শহরের ভেতরে ৬ কিলোমিটার সড়ক ডিভাইডার ও স্ট্রিট লাইটসহ চার লেনে উন্নীত করা হয়েছে।

রেল যোগাযোগের ক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নয়ন সাধিত হয়েছে; বর্তমানে ঠাকুরগাঁও রোড স্টেশন থেকে ৫টি আন্তঃনগরসহ মোট ৬টি ট্রেন ঢাকার সাথে সরাসরি যোগাযোগ রক্ষা করছে।

৫. স্বাস্থ্যসেবা ও আশ্রয়ণ প্রকল্প: সদর হাসপাতালকে ১০০ শয্যা থেকে উন্নত মানের অপারেশন থিয়েটার ও প্যাথলজি সেবাসহ ২৫০ শয্যার একটি অত্যাধুনিক জেনারেল হাসপাতালে উন্নীত করা হয়েছে।

এছাড়া আশ্রয়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে গৃহহীনদের পুনর্বাসনে বিশাল সাফল্য এসেছে; প্রথম তিন পর্যায়ে ৮,১৮৭টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের মধ্যে ইতিমধ্যে ৭,৪৩৬টি পরিবারকে জমির মালিকানাসহ পাকা ঘর প্রদান করা হয়েছে।

 

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের পিছিয়ে পড়া জেলা ঠাকুরগাঁও গত ১৫ বছরে (২০০৮-২০২৩) পরিণত হয়েছে সম্ভাবনার জনপদে। আওয়ামী লীগ সরকারের টানা তিন মেয়াদে এই জেলায় কৃষি, যোগাযোগ ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ, স্বাস্থ্য ও শিক্ষাসহ বিভিন্ন খাতে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। বিশেষ করে কৃষি ও যোগাযোগ ব্যবস্থা নতুন মাত্রা যুক্ত করেছে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে। স্থানীয়রা বলছেন, ‘ঐতিহ্য ও সম্ভাবনার’ জেলায় পরিণত হয়েছে ঠাকুরগাঁও। বদলে যাওয়া এই জনপদে থেকেই ভাগ্য উন্নয়নের স্বপ্ন দেখছেন তারা। এখন তাদের সামনে এগিয়ে যাবার পালা।

জেলা প্রশাসন জানায়, ঠাকুরগাঁও জেলায় ১৫ লাখ ৩৩ হাজার মানুষের বসবাস। তাদের আয়ের প্রধান উৎস কৃষি। এখানে উৎপাদিত প্রধান কৃষিপণ্যে মধ্যে রয়েছে ধান, গম, ভুট্টা, আলু, পাট, শাকসবজি, সরিষা, চিনা বাদাম, আম, পেঁয়াজ, রসুন, মরিচ, আদা, হলুদ ও আখ। এরমধ্যে আলু, করলা ও আম বিদেশে রফতানিও হয়। ফলে উৎপাদিত এসব ফসলের ওপর জীবিকা নির্ভর করে এ জেলার বেশিরভাগ মানুষের।

সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন, কৃষিপ্রধান ঠাকুরগাঁওয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের নানামুখী যুগোপযোগী পদক্ষেপের সুফল পাচ্ছে মানুষ। আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি ব্যবস্থাপনার ফলে জেলার মোট আবাদি জমির পরিমাণ এবং কৃষিজ পণ্যের উৎপাদন দুই দশকে বৃদ্ধি পেয়েছে বহুগুণ। ২০০৫-২০০৬ থেকে ২০০৭-০২০৮ অর্থবছরে ফসলের গড় নিবিড়তা ছিল ২৩২ শতাংশ, যা বর্তমানে বৃদ্ধি পেয়ে ২৬৯ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।

তথ্য বলছে, এই জেলায় ২ লাখ ৭৮ হাজার ২৬১ জন কৃষককে ‘কৃষি সহায়তা কার্ড’ প্রদান করা হয়েছে। ১ লাখ ৪৪ হাজার ১১৭ জন কৃষককে ১০ টাকায় ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলে দেওয়া হয়েছে। এ পর্যন্ত জেলায় ১ লাখ ৮৫০ জন কৃষককে বিভিন্ন ধরনের কৃষি প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। এসব উদ্যোগের কারণে সরাসরি উপকার পেয়েছেন কৃষকরা।

সদর উপজেলার বাসিন্দা আমজাদ হোসেনের আয়ের প্রধান উৎস কৃষি। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘১৫ বছরে তার জেলায় কৃষির ক্ষেত্রে বেশ কিছু পরিবর্তন এসেছে। বিশেষ করে এখন আধুনিক ব্যবস্থার কারণে উন্নত বীজ পাওয়া যাচ্ছে। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ থাকায় সেচ ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন এসেছে। বিএনপি আমলে এমনটি ভাবা যায়নি। রাস্তাঘাট উন্নত হওয়ায় যাতায়াত সহজ হয়েছে। ফসলের ন্যায্য দাম পাওয়া যাচ্ছে।’

সমতলে চা বাগান

১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে সমতল ভূমিতে চা চাষের যাত্রা শুরু হয় প্রথমে পঞ্চগড়ে। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ আবারও ক্ষমতায় আসার পর চা উৎপাদন শুরু হয় পাশের জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে। এ জেলার সবচেয়ে বেশি চা চাষ হয় বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায়। বর্তমানে এ জেলার ১ হাজার ৪৫৭ একর জমিতে চা চাষ হয় এবং তাতে বছরে ৪০ কোটি টাকা আয় হয় বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন। এতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ৩ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে।

রনবাগ ও বেউরঝাড়ি সীমান্ত ফাঁড়ির কাছে অবস্থিত ইসলাম টি এস্টেটের তত্ত্বাবধায়ক মো. একরামুল জানান, পঞ্চগড়ে চা চাষের সফলতা দেখে এখানকার মানুষ চা চাষে উৎসাহিত হয়েছেন। ফলে চা বাগান হওয়ায় এলাকার কৃষকরা লাভবান হয়েছেন।

ঠাকুরগাঁওয়ের সমতল ভূমিতে গড়ে উঠেছে চা বাগানযোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন

জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, গত দুই দশকের কম সময়ে ঠাকুরগাঁওয়ে ৩৩ কিলোমিটার রাস্তা প্রশস্ত করা হয়েছে। এটি এশিয়ান হাইওয়ে-২-এর উপযুক্ত করে নির্মাণ করা হয়েছে। এলজিইডির আওতায় ২০০৮ সাল পর্যন্ত ৪৪৫ কিলোমিটার পল্লি সড়ক নির্মিত হলেও ২০০৯ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে ১ হাজার ১৫৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের ৪৮০টি পাকা সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে। ফলে এ জেলায় এখন মোট পাকা সড়কের পরিমাণ প্রায় ১ হাজার ৬০০ কিলোমিটার। ২০০৬ সাল পর্যন্ত ঠাকুরগাঁও জেলায় এলজিইডির ব্রিজ ও কালভার্ট ছিল ১১৫৬টি (মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ৭৫৮৫ মিটার)। এরপর ২০২২ সাল পর্যন্ত আরও  ৫০৩১টি (মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ১৭৭০ মিটার) ব্রিজ ও কালভার্ট নির্মাণ করা হয়েছে। ফলে এলজিইডির  নির্মিত মোট ব্রিজ ও কালভার্টের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭১৮৭টিতে (মোট দৈর্ঘ্য ২৫২৮৫ মিটার)।

এছাড়া দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে পাঁচ উপজেলায় ২০১৮-২০২২ সাল পর্যন্ত ৩৯ দশমিক ৫ কিলোমিটার গ্রামীণ সড়ককে এইচবিবি (হেরিং বোন বন্ড) সড়কে উন্নীত করা হয়। ২০০৯-২০২২ পর্যন্ত সেতু ও কালভার্ট নির্মিত হয়েছে ৪৮০টি, যার মোট দৈর্ঘ্য ৯৬০০ মিটার। জেলায় রেলট্র্যাক নির্মাণ, রেল যোগাযোগে নতুন কোচ চালু, আধুনিক রেলওয়ে প্ল্যাটফর্ম নির্মাণ ইত্যাদি খাতে বিগত ২০ বছরে এ জনপদের আমূল পরিবর্তন হয়েছে। বর্তমানে ঠাকুরগাঁওয়ের সঙ্গে অন্য জেলার আধুনিক রেল যোগাযোগ স্থাপনের জন্য মোট ৬টি ট্রেন চলাচল করছে। এরমধ্যে ৫টি আন্তনগর ও একটি লোকাল ট্রেন।

হরিপুর উপজেলার একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক আশরাফুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এই সরকারের আমলে সবচেয়ে বড় উন্নয়ন হয়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থার। এর সুফল পাচ্ছে ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষ। রাস্তাঘাট ভালো হওয়ায় যাতায়াত থেকে শুরু করে কৃষিপণ্য পরিবহনেও প্রভাব পড়েছে। গ্রামীণ সড়ক পাকা হওয়ায় প্রান্তিক কৃষকরা সহজেই তাদের উৎপাদিত পণ্য বাজারজাত করতে পারছে। ফলে জনজীবনও আগের থেকে উন্নত হয়েছে।

শতভাগ বিদ্যুতের সুবিধা

জেলা প্রশাসন জানায়, ঠাকুরগাঁও জেলায় ১১৫ মেগাওয়াটের একটি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র ২০২২ সালে স্থাপিত হয়েছে। সদর উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়নের গৌরীপুরে ‘ইপিভি ঠাকুরগাঁও লিমিটেড’ নামে এই বিদ্যুৎকেন্দ্রটি স্থাপন করা হয়। এই বিদ্যুৎকেন্দ্র ও জাতীয় গ্রিডের বদৌলতে জেলার শতভাগ মানুষকে বিদ্যুৎসেবার আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে। ২০০৬ সালে ঠাকুরগাঁওয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ ছিল মাত্র ৩০ মেগাওয়াট, যা বর্তমানে ১০৪ মেগাওয়াটে উন্নীত হয়েছে। ২০০৬ সালে ৬০ শতাংশ মানুষ বিদ্যুৎ সুবিধা পেলেও ২০২৩ সালে তা শতভাগে পৌঁছেছে। বিদ্যুৎ সুবিধার ফলে জেলায় নতুন নতুন কলকারখানা গড়ে উঠছে। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের ফলে উন্নতি হয়েছে স্বাস্থ্য খাতেরও।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিদ্যুৎকেন্দ্রটির ম্যানেজার (অপারেশন) মো. জাহিদুল ইসলাম জানান, বিদ্যুৎকেন্দ্রটি ১৩২ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতার। পিক আওয়ারে ১১৪ মেগাওয়াট চাহিদা থাকলেও চুক্তি অনুযায়ী ১১৫ মেগাওয়াট উৎপাদন করা হয়। এতে জেলার বিদ্যুৎ চাহিদা মেটানো সম্ভব হচ্ছে।

রানীশংকৈল উপজেলার বাসিন্দা আফজাল হোসেন বলেন, ‘বর্তমান সরকারের সময়ে বিদ্যুৎ পাচ্ছি ঠিকঠাক। কৃষি জমিতে সময় মতো সেচ দেওয়া যাচ্ছে। বাতি-ফ্যান চলছে। অনেকের বাড়িতে এখন ফ্রিজ রয়েছে। তবে ইদানীং ঘন ঘন বিদ্যুৎ যাওয়ায় সমস্যা হচ্ছে। এই সমস্যা নাকি শিগগিরই মিটে যাবে, গেলেই ভালো।’

জেলা প্রশাসক মো. মাহবুবুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সুবিধা পাচ্ছে এ জেলার মানুষ। চাহিদার চেয়ে বিদ্যুতের উৎপাদন বেশি হওয়ায় উদ্বৃত্তও থাকছে। ফলে আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে মানুষের।’

শিক্ষার উন্নয়ন

ঠাকুরগাঁও জেলায় ২০০৬ সাল পর্যন্ত প্রাথমিক বিদ্যালয় ছিল ৪২৯টি। আওয়ামী লীগের তিন মেয়াদের শাসনামলে এই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯৯৯টিতে। ২০০৬ সাল পর্যন্ত মাধ্যমিক  স্কুল,  কলেজ,  মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছিল যথাক্রমে ৩৪৬, ৩৫, ৬৫ ও ৭টি।  বর্তমানে এই সংখ্যা যথাক্রমে  ৩৬৬, ৬০, ১২৩ ও ২৭টি। এ ছাড়া মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন, শতভাগ উপবৃত্তি কার্যক্রম, শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব ও ডিজিটাল স্মার্ট ক্লাসরুম স্থাপন, ছাত্রছাত্রীদের মাঝে ল্যাপটপ বিতরণ, বিদ্যালয়ে ওয়াই-ফাই সংযোগ স্থাপন করা হয়েছে।

‘ঠাকুরগাঁও রোড বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে’ গিয়ে দেখা গেছে, শিশু শিক্ষার্থীরা মাল্টিমিডিয়া ক্লাসে বসে শিখছে। শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাবে কম্পিউটার শিখছে। সেখানকার দশম শ্রেণির ছাত্রী মাইসা ফারজানা জানায়, কম্পিউটারের বিভিন্ন ধরনের প্রোগ্রাম শিখেছি এখানে। এর মাধ্যমে আয়ের পথ খুলবে। পরবর্তী সময়ে আমি স্বনির্ভর হতে পারবো।’

এ ছাড়া ২০০৬ সালে ঠাকুরগাঁও জেলার ৪টি উপজেলায় ৩১ শয্যাবিশিষ্ট পাঁচটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতাল ছিল। বর্তমানে জেলায় পাঁচটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালগুলো ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়েছে। জেলার একমাত্র ১০০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতাল এখন আটতলা বিশিষ্ট ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতাল। করোনা মহামারির সময় এই উন্নয়নের সুফল পেয়েছে সাধারণ মানুষ।

সামাজিক নিরাপত্তা খাতে ২০০৬ সালে বয়স্ক ভাতাভোগী ছিল ১৩ হাজার ৭৫০ জন। ২০২৩ সালে এই সংখ্যা প্রায় পাঁচগুণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৪ হাজার ৭৩০ জনে। বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা ভাতা ২০০৯ সালে পেতো ৭ হাজার ২৫০ জন। ২০২৩ সালে তা ছয়গুণ বেড়ে ৪২ হাজার ৫১০ জনে দাঁড়িয়েছে। ২০০৬ সালে অসচ্ছল প্রতিবন্ধী ভাতা পেতো ১ হাজার ৩২৫ জন, বর্তমানে পাচ্ছে ৩০ হাজার ২২৫ জন। আরও বিভিন্ন ধরনের ভাতা, শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি, আধুনিক সুযোগ-সুবিধার মডেল মসজিদ কাম ইসলামিক স্টাডি সেন্টার নির্মাণ, শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি) স্থাপন, মুজিববর্ষ উপলক্ষে আশ্রয়ণ প্রকল্প তৈরি করা হয়েছে।

সুত্র – বাংলা ট্রিবিউন । প্রকাশ – ২১ জুলাই ২০২৩

একনজরে "ঠাকুরগাঁও সদর" এর ভ্রমণ তথ্য

একনজরে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ভ্রমণ তথ্য

যাতায়াত ব্যবস্থা: ঢাকা থেকে ঠাকুরগাঁও সদর যাওয়ার সবচেয়ে আরামদায়ক মাধ্যম হলো ‘পঞ্চগড় এক্সপ্রেস’ বা ‘একতা এক্সপ্রেস’ ট্রেন।

এছাড়া ঢাকা থেকে নাবিল, হানিফ, কর্ণফুলী ইত্যাদি পরিবহনের এসি/নন-এসি বাসেও সহজে ঠাকুরগাঁও পৌঁছানো যায়

বাস ভাড়া সাধারণত ৬০০-১৮০০ টাকার মধ্যে হয়ে থাকে।

শহরের দর্শনীয় স্থানগুলো ঘুরতে অটোরিকশা বা ভ্যান ব্যবহার করা যায়।

কোথায় থাকবেন: শহরে থাকার জন্য বিভিন্ন বাজেটের বেশ কিছু আবাসিক হোটেল রয়েছে। উন্নত মানের মধ্যে ‘হোটেল প্রাইম ইন্টারন্যাশনাল’ এবং ‘হোটেল সালাম ইন্টারন্যাশনাল’ উল্লেখযোগ্য।

মাঝারি ও সাশ্রয়ী বাজেটের জন্য ‘হোটেল শাহ্‌ জালাল’, ‘সাদেকা’ এবং ‘কামাল রেসিডেন্সিয়াল হোটেল’ রয়েছে।

এছাড়া সরকারি সার্কিট হাউস ও জেলা পরিষদের রেস্ট হাউসেও অনুমতিক্রমে থাকার সুব্যবস্থা রয়েছে।

বিখ্যাত খাবার: ঠাকুরগাঁওয়ের ঐতিহ্যবাহী খাবারের মধ্যে অন্যতম হলো কয়েক ধরনের শুঁটকি ও মসলার মিশ্রণে তৈরি ‘সিদল ভর্তা’ এবং চালের গুঁড়ার বিভিন্ন পিঠা।

এছাড়া এখানকার রসালো ও সুগন্ধি ‘সূর্যপুরী আম’ দেশজুড়ে বিখ্যাত।

শহরের খাবারের জন্য সুরুচি হোটেল, রোজ হোটেল, আনসারি হোটেল এবং মজিবর ডালপুরি পর্যটকদের কাছে খুবই জনপ্রিয়।

দর্শনীয় স্থান:
সূর্যপুরী আমগাছ: সদর থেকে ২২ কিলোমিটার দূরে হরিণমারীতে অবস্থিত এশিয়ার সর্ববৃহৎ এই আমগাছটি প্রায় ২০০ বছরের পুরোনো এবং এটি দুই বিঘার বেশি জায়গাজুড়ে অক্টোপাসের মতো ডালপালা ছড়িয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

ছোট বালিয়া জামে মসজিদ (জিনের মসজিদ): শত বছরের পুরোনো তিন গম্বুজবিশিষ্ট এই অপূর্ব মসজিদটি স্থানীয়দের কাছে ‘জিনের মসজিদ’ নামে পরিচিত।

লোকায়ন জীবন বৈচিত্র্য জাদুঘর: ইএসডিও-এর উদ্যোগে সদর উপজেলার পূর্ব আকচা গ্রামে স্থাপিত এই জাদুঘরে প্রান্তিক মানুষের জীবনযাত্রা এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সংরক্ষণ করা হয়েছে।

জামালপুর জমিদার বাড়ি জামে মসজিদ: শহর থেকে ১৩ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ২৫০ বছরের পুরোনো এই মসজিদে চমৎকার লতাপাতা ও ফুলের নকশা খোদাই করা রয়েছে।

টাঙ্গন ব্যারাজ: টাঙ্গন নদের ওপর নির্মিত এই ব্যারাজটি বর্ষাকালে চমৎকার রূপ ধারণ করে এবং এটি একটি আকর্ষণীয় পিকনিক স্পট

ভৌগোলিক অবস্থান ও সীমানা

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা বাংলাদেশের রংপুর বিভাগের ঠাকুরগাঁও জেলার অন্তর্গত একটি প্রশাসনিক এলাকা।

এটি ২৫°৪০′ থেকে ২৫°৫৯′ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৮°১৫′ থেকে ৮৮°২২′ পূর্ব দ্রাঘিমাংশের মধ্যে অবস্থিত।

৬৫৪.৯৫ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের এই উপজেলার উত্তরে আটোয়ারী ও বোদা উপজেলা, পূর্বে বোদা, দেবীগঞ্জ ও বীরগঞ্জ উপজেলা, পশ্চিমে বালিয়াডাঙ্গী ও রাণীশংকৈল উপজেলা এবং দক্ষিণে পীরগঞ্জ উপজেলা অবস্থিত ।

ভৌগলিক বৈশিষ্ট্য:

অবস্থান: ২৫°৪০′–২৫°৫৯′ উঃ, ৮৮°১৫′–৮৮°২২′

আয়তন: প্রায় ৬৫৪.৯৫ বর্গ কিমি।


সীমানা: উত্তরে পঞ্চগড়ের আটোয়ারী ও বোদা;  দক্ষিণে পীরগঞ্জ ও দিনাজপুর জেলার বীরগঞ্জ; পূর্বে বোদা, দেবীগঞ্জ ও বীরগঞ্জ; পশ্চিমে বালিয়াডাঙ্গী ও রাণীশংকৈল উপজেলা।

নদী: টাঙ্গন, নাগর, কুলিক ও পাথরাই নদী উল্লেখযোগ্য ।

এ উপজেলাটি মূলত সমতল ভূমি এবং এর মধ্য দিয়ে টাঙ্গন নদী প্রবাহিত হয়েছে ।

উপজেলার ইতিহাস ও ঐতিহ্য

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ইতিহাস ও ঐতিহ্য
নামকরণের ইতিহাস: ঠাকুরগাঁওয়ের প্রাচীন নাম ছিল ‘নিশ্চিন্তপুর’, যার উল্লেখ ১৭শ শতাব্দীর কোচবিহারের মানচিত্রেও পাওয়া যায়

ইতিহাস অনুযায়ী, ১৮০০ সালের দিকে টাঙ্গন নদীর পূর্ব তীরে বর্তমান আকচা ইউনিয়নের একটি মৌজায় নারায়ণ চক্রবর্তী এবং সতীশ চক্রবর্তী নামক দুই বিত্তশালী ও প্রভাবশালী ব্রাহ্মণ ভাই বসবাস করতেন

এলাকার মানুষ তাদের প্রভাবের কারণে তাদের বাড়িতকে ‘ঠাকুরবাড়ি’ বলে ডাকত। পরবর্তীতে ব্রিটিশ আমলে যখন এই এলাকায় একটি থানা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়, তখন এই ‘ঠাকুরবাড়ি’ থেকেই এলাকাটির নামকরণ হয় ‘ঠাকুরগাঁও’

১৮৬০ সালে এটি মহকুমা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে এবং ১৯৮৪ সালের ১ ফেব্রুয়ারি আলাদা জেলা হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে

সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস: ১৯৪৬-৪৭ সালে বাংলার উত্তর জনপদে কৃষকদের অধিকার আদায়ের যে ঐতিহাসিক ‘তেভাগা আন্দোলন’ গড়ে উঠেছিল, তার অন্যতম প্রধান কেন্দ্র ছিল ঠাকুরগাঁও সদর। এই আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে ৩৫ জন কৃষক শহীদ হয়েছিলেন

এছাড়া ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে ৬ নং সেক্টরের অধীনে এই এলাকায় পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তোলা হয়

ভুল্লি, গড়েয়া এবং সালান্দর অঞ্চলে ভয়াবহ সম্মুখযুদ্ধ সংঘটিত হয়। সুখানপুকুরী, ঝাটিডাঙ্গা, ফাড়াবাড়ি এবং টাঙ্গন নদীর তীরে অসংখ্য বধ্যভূমি ও গণকবর রয়েছে যা আজও পাকিস্তানি বাহিনীর বর্বরতার সাক্ষী হয়ে আছে

ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি: ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি এবং লোকজ সংস্কৃতির এক মিলনস্থল। এখানে মুসলিম ও হিন্দুদের পাশাপাশি সাঁওতাল, ওঁরাও, মুন্ডা, মুষর, কোচ এবং রাজবংশী প্রভৃতি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষ দীর্ঘকাল ধরে নিজেদের ভাষা ও সংস্কৃতি বজায় রেখে বসবাস করছে

গ্রামীণ লোকসংস্কৃতির অংশ হিসেবে এখানে ‘ধামের গান’ নামক বিশেষ লোকনাট্যের প্রচলন রয়েছে

এছাড়া শত বছরের পুরোনো ‘ফাড়াবাড়ি হাটের চড়ক পূজা ও মেলা’, ঊনবিংশ শতাব্দীর ‘রুহিয়া আজাদ মেলা’ এবং ‘রুহিয়া বৈশাখী মেলা’ এই অঞ্চলের মানুষের ঐতিহ্য ও মিলনমেলার অনন্য নিদর্শন

🏗️ উন্নয়ন প্রকল্পসমূহ

শেখ হাসিনার ২০১৪ সালের নির্বাচনী ইশতেহারে প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় একটি করে উন্নত মসজিদ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি প্রদান করেন। ৮ ফেব্রুয়ারী ২০১৫ খ্রি. তারিখে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় পরিদর্শনকালে উক্ত প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় একটি করে ৫৬০টি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপন করার জন্য ৮ হাজার ৭২২ কেটি টাকা ব্যয়ে এপ্রিল ২০১৭ হতে ডিসেম্বর ২০২০ পর্যন্ত মেয়াদে ১ম প্রকল্প বাস্তবায়নে অনুমোদিত হয়। সংশোধিত অনুমোদিত প্রকল্পের নকশা অনুযায়ী মডেল মসজিদের জন্য ৪০ শতাংশ জায়গা নির্ধারণ করা হয়।আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী সারাদেশে ৫৬০টি মডেল মসজিদের একটি ঠাকুরগাঁওয়ে সদরে আর্ট গ্যালারির পাশে। ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলায় ২টি, পীরগঞ্জ, রানীসংকৈল, হরিপুর, বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় একটি করে মোট ৬টি মডেল মসজিদ তৈরি হয়েছে । এ মডেল মসজিদগুলো হতে পারে আগামী প্রজন্মের জন্য ইতিহাস ও ঐতিহ্য, ইসলামি জ্ঞান চর্চা এবং প্রচারের কেন্দ্রবিন্দু ।

কৃষিখাতে আধুনিকায়ন ও নীরব বিপ্লব: ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার অর্থনীতির মূল ভিত্তি হলো কৃষি, যার ওপর ৬৫.০৭% মানুষ নির্ভরশীল । ২০০৫-২০০৮ সময়কালে এই অঞ্চলে শস্যের নিবিড়তা ছিল ২৩২%, যা বর্তমান সময়ে (২০২৩-২০২৪) বেড়ে ২৬৯%-এ উন্নীত হয়েছে । কৃষকদের প্রাতিষ্ঠানিক অর্থনীতির সাথে যুক্ত করতে এই ১৫ বছরে ২ লাখ ৭৮ হাজার ২৬১ জন কৃষককে কৃষি সহায়তা কার্ড প্রদান করা হয়েছে

কৃষকদের প্রাতিষ্ঠানিক অর্থনীতির সাথে যুক্ত করতে এই ১৫ বছরে ২ লাখ ৭৮ হাজার ২৬১ জন কৃষককে কৃষি সহায়তা কার্ড প্রদান করা হয়েছে এবং ১ লাখ ৪৪ হাজার ১১৭ জন কৃষক মাত্র ১০ টাকায় ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার সুবিধা পেয়েছেন । এই সময়ে ১ লাখ ৮৫০ জন কৃষককে বিভিন্ন কৃষি প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে । এছাড়া চা চাষে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে; বর্তমানে জেলায় ১,৪৫৭ একর জমিতে চা চাষ হচ্ছে যা থেকে বছরে প্রায় ৪০ কোটি টাকা আয় হচ্ছে এবং ৩ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে ।

শতভাগ বিদ্যুতায়ন ও জ্বালানি খাতের যুগান্তকারী উন্নয়ন: ২০০৬ সালে ঠাকুরগাঁওয়ে বিদ্যুৎ গ্রাহক ছিলেন মাত্র ৯১,১১২ জন, যা এই সরকারের আমলে বেড়ে বর্তমানে ৪ লাখ ১৮ হাজার ৯১ জনে দাঁড়িয়েছে এবং উপজেলাটি শতভাগ বিদ্যুতায়নের আওতায় এসেছে । শিল্পায়ন ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে ২০২২ সালে সদরের জগন্নাথপুর ইউনিয়নের গৌরীপুরে 'ইপিভি ঠাকুরগাঁও লিমিটেড' নামে একটি ১৩২ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপিত হয়েছে । বর্তমানে এই কেন্দ্র থেকে ১০৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে, যা সমগ্র জেলার ১১৪ মেগাওয়াটের চাহিদার প্রায় পুরোটাই মেটাতে সক্ষম ।

শিক্ষা খাতে ডিজিটাল রূপান্তর ও অবকাঠামো বৃদ্ধি: ২০০৬-২০০৮ সালের পরিসংখ্যানে এই উপজেলায় মাল্টিমিডিয়া ও স্মার্ট ক্লাসরুমের সংখ্যা ছিল শূন্য, কিন্তু বর্তমানে এখানে ৬৪৩টি মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম এবং ১৩১টি ডিজিটাল স্মার্ট ক্লাসরুম স্থাপন করা হয়েছে । উপবৃত্তি সুবিধা ৫% থেকে বাড়িয়ে ১০০% করায় শিক্ষার্থীদের স্কুল থেকে ঝরে পড়ার (Dropout) হার ১৮.৭৭% থেকে কমে মাত্র ২.৬%-এ নেমে এসেছে । উচ্চশিক্ষার জন্য 'এম ওয়াজেদ মিয়া ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ' স্থাপন করা হয়েছে ।

যোগাযোগ ব্যবস্থা ও মেগাপ্রকল্প: এই ১৫ বছরে এলজিইডি (LGED)-এর মাধ্যমে উপজেলায় ১,১৫৫ কিলোমিটার নতুন পাকা রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে । যোগাযোগ ব্যবস্থায় গতি আনতে এশিয়ান হাইওয়ে-২ এর অংশ হিসেবে ৩৩ কিলোমিটার রাস্তা প্রশস্ত করা হয়েছে এবং শহরের ভেতরে ৬ কিলোমিটার সড়ক ডিভাইডার ও স্ট্রিট লাইটসহ চার লেনে উন্নীত করা হয়েছে । রেল যোগাযোগের ক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নয়ন সাধিত হয়েছে; বর্তমানে ঠাকুরগাঁও রোড স্টেশন থেকে ৫টি আন্তঃনগরসহ মোট ৬টি ট্রেন ঢাকার সাথে সরাসরি যোগাযোগ রক্ষা করছে ।

স্বাস্থ্যসেবা ও আশ্রয়ণ প্রকল্প: সদর হাসপাতালকে ১০০ শয্যা থেকে উন্নত মানের অপারেশন থিয়েটার ও প্যাথলজি সেবাসহ ২৫০ শয্যার একটি অত্যাধুনিক জেনারেল হাসপাতালে উন্নীত করা হয়েছে । এছাড়া আশ্রয়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে গৃহহীনদের পুনর্বাসনে বিশাল সাফল্য এসেছে; প্রথম তিন পর্যায়ে ৮,১৮৭টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের মধ্যে ইতিমধ্যে ৭,৪৩৬টি পরিবারকে জমির মালিকানাসহ পাকা ঘর প্রদান করা হয়েছে ।

যাতায়াত ব্যবস্থা: ঢাকা থেকে ঠাকুরগাঁও সদর যাওয়ার সবচেয়ে আরামদায়ক মাধ্যম হলো 'পঞ্চগড় এক্সপ্রেস' বা 'একতা এক্সপ্রেস' ট্রেন । এছাড়া ঢাকা থেকে নাবিল, হানিফ, কর্ণফুলী ইত্যাদি পরিবহনের এসি/নন-এসি বাসেও সহজে ঠাকুরগাঁও পৌঁছানো যায় । বাস ভাড়া সাধারণত ৬০০-১৮০০ টাকার মধ্যে হয়ে থাকে । শহরের দর্শনীয় স্থানগুলো ঘুরতে অটোরিকশা বা ভ্যান ব্যবহার করা যায় ।

কৃষিখাতে আধুনিকায়ন ও নীরব বিপ্লব: ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার অর্থনীতির মূল ভিত্তি হলো কৃষি, যার ওপর ৬৫.০৭% মানুষ নির্ভরশীল । ২০০৫-২০০৮ সময়কালে এই অঞ্চলে শস্যের নিবিড়তা ছিল ২৩২%, যা বর্তমান সময়ে (২০২৩-২০২৪) বেড়ে ২৬৯%-এ উন্নীত হয়েছে । কৃষকদের প্রাতিষ্ঠানিক অর্থনীতির সাথে যুক্ত করতে এই ১৫ বছরে ২ লাখ ৭৮ হাজার ২৬১ জন কৃষককে কৃষি সহায়তা কার্ড প্রদান করা হয়েছে

যোগাযোগ ব্যবস্থা ও মেগাপ্রকল্প: এই ১৫ বছরে এলজিইডি (LGED)-এর মাধ্যমে উপজেলায় ১,১৫৫ কিলোমিটার নতুন পাকা রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে । যোগাযোগ ব্যবস্থায় গতি আনতে এশিয়ান হাইওয়ে-২ এর অংশ হিসেবে ৩৩ কিলোমিটার রাস্তা প্রশস্ত করা হয়েছে এবং শহরের ভেতরে ৬ কিলোমিটার সড়ক ডিভাইডার ও স্ট্রিট লাইটসহ চার লেনে উন্নীত করা হয়েছে । রেল যোগাযোগের ক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নয়ন সাধিত হয়েছে; বর্তমানে ঠাকুরগাঁও রোড স্টেশন থেকে ৫টি আন্তঃনগরসহ মোট ৬টি ট্রেন ঢাকার সাথে সরাসরি যোগাযোগ রক্ষা করছে ।

কৃষিখাতে আধুনিকায়ন ও নীরব বিপ্লব: ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার অর্থনীতির মূল ভিত্তি হলো কৃষি, যার ওপর ৬৫.০৭% মানুষ নির্ভরশীল । ২০০৫-২০০৮ সময়কালে এই অঞ্চলে শস্যের নিবিড়তা ছিল ২৩২%, যা বর্তমান সময়ে (২০২৩-২০২৪) বেড়ে ২৬৯%-এ উন্নীত হয়েছে । কৃষকদের প্রাতিষ্ঠানিক অর্থনীতির সাথে যুক্ত করতে এই ১৫ বছরে ২ লাখ ৭৮ হাজার ২৬১ জন কৃষককে কৃষি সহায়তা কার্ড প্রদান করা হয়েছে

কৃষিখাতে আধুনিকায়ন ও নীরব বিপ্লব: ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার অর্থনীতির মূল ভিত্তি হলো কৃষি, যার ওপর ৬৫.০৭% মানুষ নির্ভরশীল । ২০০৫-২০০৮ সময়কালে এই অঞ্চলে শস্যের নিবিড়তা ছিল ২৩২%, যা বর্তমান সময়ে (২০২৩-২০২৪) বেড়ে ২৬৯%-এ উন্নীত হয়েছে । কৃষকদের প্রাতিষ্ঠানিক অর্থনীতির সাথে যুক্ত করতে এই ১৫ বছরে ২ লাখ ৭৮ হাজার ২৬১ জন কৃষককে কৃষি সহায়তা কার্ড প্রদান করা হয়েছে

শিক্ষা খাতে ডিজিটাল রূপান্তর ও অবকাঠামো বৃদ্ধি: ২০০৬-২০০৮ সালের পরিসংখ্যানে এই উপজেলায় মাল্টিমিডিয়া ও স্মার্ট ক্লাসরুমের সংখ্যা ছিল শূন্য, কিন্তু বর্তমানে এখানে ৬৪৩টি মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম এবং ১৩১টি ডিজিটাল স্মার্ট ক্লাসরুম স্থাপন করা হয়েছে । উপবৃত্তি সুবিধা ৫% থেকে বাড়িয়ে ১০০% করায় শিক্ষার্থীদের স্কুল থেকে ঝরে পড়ার (Dropout) হার ১৮.৭৭% থেকে কমে মাত্র ২.৬%-এ নেমে এসেছে । উচ্চশিক্ষার জন্য 'এম ওয়াজেদ মিয়া ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ' স্থাপন করা হয়েছে ।

কৃষকদের প্রাতিষ্ঠানিক অর্থনীতির সাথে যুক্ত করতে এই ১৫ বছরে ২ লাখ ৭৮ হাজার ২৬১ জন কৃষককে কৃষি সহায়তা কার্ড প্রদান করা হয়েছে এবং ১ লাখ ৪৪ হাজার ১১৭ জন কৃষক মাত্র ১০ টাকায় ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার সুবিধা পেয়েছেন । এই সময়ে ১ লাখ ৮৫০ জন কৃষককে বিভিন্ন কৃষি প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে । এছাড়া চা চাষে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে; বর্তমানে জেলায় ১,৪৫৭ একর জমিতে চা চাষ হচ্ছে যা থেকে বছরে প্রায় ৪০ কোটি টাকা আয় হচ্ছে এবং ৩ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে ।

শতভাগ বিদ্যুতায়ন ও জ্বালানি খাতের যুগান্তকারী উন্নয়ন: ২০০৬ সালে ঠাকুরগাঁওয়ে বিদ্যুৎ গ্রাহক ছিলেন মাত্র ৯১,১১২ জন, যা এই সরকারের আমলে বেড়ে বর্তমানে ৪ লাখ ১৮ হাজার ৯১ জনে দাঁড়িয়েছে এবং উপজেলাটি শতভাগ বিদ্যুতায়নের আওতায় এসেছে । শিল্পায়ন ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে ২০২২ সালে সদরের জগন্নাথপুর ইউনিয়নের গৌরীপুরে 'ইপিভি ঠাকুরগাঁও লিমিটেড' নামে একটি ১৩২ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপিত হয়েছে । বর্তমানে এই কেন্দ্র থেকে ১০৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে, যা সমগ্র জেলার ১১৪ মেগাওয়াটের চাহিদার প্রায় পুরোটাই মেটাতে সক্ষম ।

৪.৮

১০৫ জনমত

উন্নয়ন কেমন দেখছেন?