২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে সিলেট জেলায় গৃহীত ও বাস্তবায়িত মেগাপ্রকল্প
অবকাঠামো উন্নয়ন

২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে সিলেট জেলায় গৃহীত ও বাস্তবায়িত মেগাপ্রকল্প

২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে সিলেট জেলায় গৃহীত ও বাস্তবায়িত মেগাপ্রকল্প এবং বৃহৎ উন্নয়নমূলক কাজের একটি সুনির্দিষ্ট তালিকা নিচে দেওয়া হলো:

১. সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্প: সিলেট থেকে সরাসরি ইউরোপ-আমেরিকায় ফ্লাইট পরিচালনা এবং পণ্য রপ্তানির উদ্দেশ্যে ২,৩০৯ কোটি টাকা ব্যয়ে এই মেগাপ্রকল্পের কাজ শুরু হয়। ২০২০ সালের শেষের দিকে এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয়, যার আওতায় অত্যাধুনিক আন্তর্জাতিক টার্মিনাল, রানওয়ে সম্প্রসারণ এবং কার্গো স্টেশন নির্মাণ করা হচ্ছে।

২. ঢাকা-সিলেট-তামাবিল মহাসড়ক ৬-লেন ও ৪-লেনে উন্নীতকরণ: প্রায় ৩০,০০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ঢাকা থেকে সিলেট পর্যন্ত ২০৯ কিলোমিটার মহাসড়ককে ৬-লেনে উন্নীত করার কাজ ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে শুরু হয়। পাশাপাশি, এশীয় অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংকের (AIIB) অর্থায়নে সিলেট থেকে তামাবিল পর্যন্ত ৫৬.১৬ কিলোমিটার সড়ককে ৪-লেনে উন্নীত করার কাজও চলমান রয়েছে।

৩. সিলেট ইলেকট্রনিক্স সিটি (বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হাই-টেক পার্ক): স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য সিলেটে ১৭১ একর জমির ওপর এই বৃহৎ হাই-টেক পার্কটি নির্মাণ করা হয়েছে।

৪. শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন: সিলেট অঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবাকে বিশ্বমানে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে এই মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে এবং প্রায় ৮০ একর জায়গার ওপর এর স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে।

৫. শাহজালাল ফার্টিলাইজার ফ্যাক্টরি (ফেঞ্চুগঞ্জ): কৃষি খাতে সারের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে এবং শিল্পায়নের প্রসারে ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলায় এই বৃহৎ ও আধুনিক সার কারখানাটি নির্মাণ করা হয়েছে।

৬. কুমারগাঁও ২২৫ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল পাওয়ার প্লান্ট: সিলেট অঞ্চলে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের লক্ষ্যে কুমারগাঁওয়ের ১৫০ মেগাওয়াটের কেন্দ্রটিকে আধুনিকায়ন করে ২২৫ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল পাওয়ার প্লান্টে উন্নীত করা হয়, যার চুক্তি হয়েছিল ২০০৯ সালে।

৭. সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম ও আউটার স্টেডিয়াম নির্মাণ: ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়নের অংশ হিসেবে ২০১৪ সালের টি-২০ বিশ্বকাপ উপলক্ষে ২০১৩ সালে স্টেডিয়ামটির ব্যাপক সংস্কার ও আধুনিকায়ন করা হয়। পরবর্তীতে এখানে একটি আধুনিক আউটার স্টেডিয়াম কমপ্লেক্সও নির্মাণ করা হয়েছে।

৮. সুরমাসহ ৭৪টি নদী খনন ও তীর সংরক্ষণ প্রকল্প: সিলেট নগরীর জলাবদ্ধতা দূরীকরণ এবং নদীর নাব্যতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে দীর্ঘ ৫০ বছর পর সুরমা নদীসহ এই অঞ্চলের ৭৪টি নদী খনন ও তীর সংরক্ষণের একটি বড় প্রকল্প চলমান রয়েছে।

৯. কাজীর বাজার ও চন্দরপুর সেতু নির্মাণ: সুরমা নদীর ওপর দৃষ্টিনন্দন কাজীর বাজার সেতু এবং চন্দরপুর সেতু নির্মাণের ফলে সিলেট মূল শহরের সাথে দক্ষিণ সুরমা ও গোলাপগঞ্জ উপজেলার যোগাযোগ ব্যবস্থায় যুগান্তকারী পরিবর্তন এসেছে।

১০. পল্লী অবকাঠামো ও সড়ক উন্নয়ন মেগাপ্রকল্প (LGED): সিলেট বিভাগের উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের সড়কগুলোর প্রশস্তকরণ ও শক্তিশালীকরণের জন্য ১,৯৫২ কোটি টাকার একটি বৃহৎ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে কৃষি পণ্য পরিবহন ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে বড় ধরনের গতিশীলতা আসবে।