বিস্ময়কর অগ্রযাত্রায়

পঞ্চগড় তেতুলিয়া উপজেলা

ডিজিটাল আর্কাইভে স্বাগতম

"পঞ্চগড় তেতুলিয়া" উপজেলার উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রা

তেতুলিয়া উপজেলায় গত ১৫ বছরের আওয়ামী লীগ শাসনামলে (২০০৯-২০২৪) উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রা:

তেতুলিয়া উপজেলায় গত ১৫ বছরের (২০০৯-২০২৪) আওয়ামী লীগের শাসনামলে এই জেলার প্রতিটি উপজেলায় উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রা ভৌত অবকাঠামো, কৃষি রূপান্তর, যোগাযোগ ব্যবস্থা, মেগাপ্রকল্প, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা, শতভাগ বিদ্যুতায়ন এবং সামাজিক উন্নয়নের সুনির্দিষ্ট তথ্য ও ডেটা এই সাক্ষ্য দেয় যে, তেঁতুলিয়া এক অভাবনীয় পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে গেছে।

তেতুলিয়া উপজেলায় এই মেয়াদকালে বাস্তবায়িত ৫টি মেগাপ্রকল্প ও উন্নয়ন খাতের বিবরণ :

তেতুলিয়া উপজেলায় মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র:

(ক) ধর্মীয় মূল্যবোধ ও ইসলামি সংস্কৃতির সঠিক বিকাশের লক্ষ্যে আওয়ামী লীগ সরকারের অন্যতম সেরা মেগাপ্রকল্প হলো দেশের প্রতিটি উপজেলায় দৃষ্টিনন্দন মডেল মসজিদ নির্মাণ। এর আওতায় তেঁতুলিয়া উপজেলাতেও একটি অত্যাধুনিক মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। এখানে নারী-পুরুষের পৃথক নামাজ কক্ষ, ইসলামি গবেষণা ও হজ যাত্রীদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে  

তেতুলিয়া উপজেলায় আশ্রয়ণ প্রকল্প (ভূমিহীনদের ঘর):

(খ) বর্তমান সরকারের যুগান্তকারী ও মানবিক ‘আশ্রয়ণ-২’ প্রকল্পের আওতায় পঞ্চগড় দেশের সর্বপ্রথম শতভাগ ভূমিহীন ও গৃহহীনমুক্ত জেলা হওয়ার অভাবনীয় কৃতিত্ব অর্জন করেছে (২১ জুলাই ২০২২)। ২০২০-২১ অর্থবছরে প্রতিটি ১ লাখ ৭১ হাজার টাকা ব্যয়ে ছিন্নমূল পরিবারকে জমিসহ আধাপাকা ঘর দেওয়া হয়েছে, যার মাধ্যমে তেঁতুলিয়া উপজেলার ডাহুক গুচ্ছগ্রামের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীসহ শত শত দরিদ্র পরিবার নিরাপদ ঠিকানা পেয়েছে   
(গ) তৃণমূল স্বাস্থ্যসেবা (কমিউনিটি ক্লিনিক আধুনিকায়ন): প্রান্তিক মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে আওয়ামী লীগ সরকারের বিশ্বনন্দিত ‘কমিউনিটি ক্লিনিক’ উদ্যোগটি তেঁতুলিয়ায় ব্যাপকভাবে সফল। বিনামূল্যে ৩০ প্রকার ওষুধ সরবরাহ শিশু ও মাতৃমৃত্যু রোধে বিশাল ভূমিকা রেখেছে  
(ঘ) স্মার্ট শিক্ষা (শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব): স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণের লক্ষ্যে তেঁতুলিয়ার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে (যেমন- তেঁতুলিয়া সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়, কাজী শাহাবুদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজ) আধুনিক শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব স্থাপন করা হয়েছে। এর ফলে শিক্ষার হার ৭৭.৬% এ উন্নীত হয়েছে   
(ঙ) ভৌত অবকাঠামো, কৃষি রূপান্তর ও শতভাগ বিদ্যুতায়ন: ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত সময়ে তেঁতুলিয়ায় শতভাগ বিদ্যুতায়ন সম্পন্ন হয়েছে  । যোগাযোগ ব্যবস্থায় মেগাপ্রকল্পের আওতায় ১৮৭ কোটি ৩৪ লাখ টাকা ব্যয়ে ৫৩.১০ কি.মি. পঞ্চগড়-বাংলাবান্ধা এশিয়ান হাইওয়ে-২ নির্মিত হয়েছে এবং ৩ কোটি ৭০ লাখ টাকা ব্যয়ে বাংলাবান্ধায় ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব স্কয়ার’ নির্মাণ করা হচ্ছে  
কৃষিতে এসেছে অভাবনীয় রূপান্তর; কাজী অ্যান্ড কাজী টি এস্টেটসহ সমতলে ১০০ ভাগ অর্গানিক চা চাষে বৈপ্লবিক প্রসার ঘটেছে। এছাড়া ২০২৩ সালের ৬ জানুয়ারি দেশের প্রথম ক্যাশলেস ইউনিয়ন হিসেবে তেঁতুলিয়ার তিরনইহাট ইউপি ডিজিটাল লেনদেনের যুগে প্রবেশ করেছে ‘মঙ্গা’ কাটিয়ে পঞ্চগড় এখন সমৃদ্ধ জনপদ – Jagonews24.com । “পঞ্চগড়ের চা শিল্প – Tea Industry of Panchagarh” । 

 

এই উপজেলার উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রার আরও তথ্য শীঘ্রই আপডেট করা হচ্ছে।

একনজরে "পঞ্চগড় তেতুলিয়া" এর ভ্রমণ তথ্য

২. একনজরে ভ্রমণ তথ্য: হিমালয়কন্যা খ্যাত তেঁতুলিয়া উপজেলা পর্যটকদের জন্য এক অনন্য আকর্ষণ। শীতের সময় এখান থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘার মোহনীয় রূপ দেখা যায়।
  • যাতায়াত ব্যবস্থা: রাজধানী ঢাকার গাবতলী বা শ্যামলী থেকে সড়কপথে হানিফ, নাবিল বা তানযিলা ট্রাভেলের এসি/নন-এসি বাসে করে সরাসরি তেঁতুলিয়া পৌঁছানো যায়। বাসের ভাড়া ১০০০ থেকে ১৯০০ টাকার মধ্যে। এছাড়া রেলপথে ভ্রমণ করতে চাইলে ঢাকা থেকে পঞ্চগড় এক্সপ্রেস, একতা এক্সপ্রেস বা দ্রুতযান এক্সপ্রেসে (ভাড়া ৭৪০-২৫৯৮ টাকা) পঞ্চগড় নেমে সেখান থেকে লোকাল বাস বা অটোরিকশায় (ভাড়া ৫০-৬০ টাকা) মাত্র ৪০ কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে তেঁতুলিয়ায় যাওয়া যায়   
  • কোথায় থাকবেন: পর্যটকদের থাকার জন্য তেঁতুলিয়ায় ঐতিহাসিক জেলা পরিষদ ডাকবাংলো (ভাড়া ৪০০ টাকা), কাজী ব্রাদার্স হোটেল, হোটেল সীমান্তের পাড়, মেঘকুঞ্জ রিসোর্ট, টি ভ্যালি গ্রীন রিসোর্ট এবং ইকো পার্ক রেস্টহাউস রয়েছে, যেখানে অত্যন্ত মনোরম পরিবেশে থাকা যায়   
  • দর্শনীয় স্থানসমূহ: তেঁতুলিয়ার বিখ্যাত দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে রয়েছে মহানন্দা নদীর তীরে অবস্থিত শতবর্ষী ‘তেঁতুলিয়া ডাকবাংলো’, যেখান থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা যায়। এছাড়া বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্ট, রওশনপুর আনন্দধারা ও চা বাগান, ডাহুক বনভোজন কেন্দ্র এবং বুড়াবুড়ি ইউনিয়নের দুর্গের ভগ্নাংশ পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ   

 

ভৌগোলিক অবস্থান ও সীমানা

৩. ভৌগোলিক অবস্থান ও সীমানা: বাংলাদেশের সর্বউত্তরের প্রান্তিক উপজেলা হলো তেঁতুলিয়া। এর মোট আয়তন প্রায় ১৮৯.১২ বর্গকিলোমিটার (৭৩.০২ বর্গমাইল)। ভৌগোলিক সীমানার দিক থেকে এটি তিন দিক দিয়েই ভারতের সীমানা দ্বারা বেষ্টিত। তেঁতুলিয়ার উত্তরে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের দার্জিলিং ও শিলিগুড়ি, পূর্বে ভারতের জলপাইগুড়ি ও কোচবিহার, পশ্চিমে উত্তর দিনাজপুর ও পূর্ণিয়া এবং শুধু দক্ষিণ দিকে পঞ্চগড় সদর উপজেলা অবস্থিত। উপজেলাটি বাংলাবান্ধা, তিরনইহাট, তেঁতুলিয়া, শালবাহান, বুড়াবুড়ি, ভজনপুর এবং দেবনগর—এই ৭টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। এর মোট জনসংখ্যা ১,৬০,০৯০ জন। এই উপজেলার পাশ দিয়ে মহানন্দা, ডাহুক, বেরং, গোবরা এবং করতোয়ার মতো স্রোতস্বিনী নদী বয়ে গেছে, যা এখানকার পরিবেশকে করেছে অত্যন্ত মনোরম ও উর্বর   

 

উপজেলার ইতিহাস ও ঐতিহ্য

৪. ইতিহাস ও ঐতিহ্য: তেঁতুলিয়া উপজেলার ইতিহাস অত্যন্ত সুপ্রাচীন। জনশ্রুতি অনুযায়ী, প্রাচীনকালে এখানে একটি বিশাল ‘তেঁতুল’ গাছ ছিল, যার নিচে কোচবিহারের রাজা কর দিতে অক্ষম প্রজাদের মারধর করতেন, আবার কেউ বলেন একজন ইংরেজ বণিকের বাবা ‘টিটু’র নামানুসারে এর নাম তেঁতুলিয়া হয়েছে। ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, প্রাচীনকালে এটি কামরূপ, কামতা ও কোচবিহার রাজ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল। ১৮৫৭ সালে তেঁতুলিয়া একটি মহকুমা হিসেবে গঠিত হয়। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে তেঁতুলিয়ার গৌরবময় ভূমিকা রয়েছে। ৬নং সেক্টরের অধীন এই উপজেলাটি পুরো ৯ মাস শত্রুমুক্ত (মুক্তাঞ্চল) ছিল, কারণ অমরখানা ব্রিজ উড়িয়ে দেওয়ায় পাকবাহিনী এখানে প্রবেশ করতে পারেনি   

 

🏗️ উন্নয়ন প্রকল্পসমূহ

বাংলাদেশের মানচিত্রের সর্বউত্তরের সীমানায় অবস্থিত এক অনন্য সুন্দর ও প্রান্তিক উপজেলা হলো তেঁতুলিয়া। এর মোট আয়তন প্রায় ১৮৯.১২ বর্গকিলোমিটার (৭৩.০২ বর্গমাইল)। ভৌগোলিক সীমানার দিক থেকে এটি অত্যন্ত বৈচিত্র্যময়, কারণ এর তিন দিক (উত্তর, পশ্চিম ও দক্ষিণ) ভারতের সীমানা দ্বারা বেষ্টিত। উত্তরে ভারতের দার্জিলিং ও শিলিগুড়ি, পূর্বে জলপাইগুড়ি এবং পশ্চিমে উত্তর দিনাজপুর অবস্থিত। তেঁতুলিয়া উপজেলাটি বাংলাবান্ধা, তিরনইহাট, তেঁতুলিয়াসহ মোট ৭টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। এর বুক চিরে বয়ে গেছে মহানন্দা, ডাহুক, বেরং ও করতোয়ার মতো চমৎকার সব নদী। এখানকার মাটি ও জলবায়ু চা উৎপাদনের জন্য অত্যন্ত উপযোগী, যা এর ভৌগোলিক গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

তেঁতুলিয়া উপজেলার ইতিহাস অত্যন্ত সুপ্রাচীন এবং গৌরবের। ঐতিহাসিকদের মতে, প্রাচীনকালে এই অঞ্চলটি কামরূপ, কামতা ও কোচবিহার রাজ্যের একটি অবিচ্ছিন্ন অংশ ছিল। তবে তেঁতুলিয়ার সবচেয়ে বড় ঐতিহাসিক পরিচয় হলো ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে এর অবিস্মরণীয় অবদান। ৬নং সেক্টরের অধীন এই উপজেলাটি মুক্তিযুদ্ধের পুরো ৯ মাস ছিল সম্পূর্ণ 'মুক্তাঞ্চল'। অমরখানা ব্রিজটি ডিনামাইট দিয়ে উড়িয়ে দেওয়ায় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী কখনোই তেঁতুলিয়ায় প্রবেশ করতে পারেনি। এখানকার ঐতিহাসিক ডাকবাংলোতেই বসে মুক্তিযুদ্ধের অনেক গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনা ও যুদ্ধ পরিচালনা করা হতো। এই উপজেলার পরতে পরতে ছড়িয়ে আছে শত বছরের প্রাচীন ঐতিহ্য এবং স্বাধীন বাংলার গৌরবগাথা।

বাংলাদেশের মানচিত্রের সর্বউত্তরের সীমানায় অবস্থিত এক অনন্য সুন্দর ও প্রান্তিক উপজেলা হলো তেঁতুলিয়া। এর মোট আয়তন প্রায় ১৮৯.১২ বর্গকিলোমিটার (৭৩.০২ বর্গমাইল)। ভৌগোলিক সীমানার দিক থেকে এটি অত্যন্ত বৈচিত্র্যময়, কারণ এর তিন দিক (উত্তর, পশ্চিম ও দক্ষিণ) ভারতের সীমানা দ্বারা বেষ্টিত। উত্তরে ভারতের দার্জিলিং ও শিলিগুড়ি, পূর্বে জলপাইগুড়ি এবং পশ্চিমে উত্তর দিনাজপুর অবস্থিত। তেঁতুলিয়া উপজেলাটি বাংলাবান্ধা, তিরনইহাট, তেঁতুলিয়াসহ মোট ৭টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। এর বুক চিরে বয়ে গেছে মহানন্দা, ডাহুক, বেরং ও করতোয়ার মতো চমৎকার সব নদী। এখানকার মাটি ও জলবায়ু চা উৎপাদনের জন্য অত্যন্ত উপযোগী, যা এর ভৌগোলিক গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত ও দূরদর্শী উদ্যোগে গত ১৫ বছরে (২০০৯-২০২৪) তেঁতুলিয়া উপজেলাসহ পুরো জেলায় কৃষিক্ষেত্রে এক নীরব বিপ্লব সংঘটিত হয়েছে সমতলে চা চাষের মাধ্যমে। আওয়ামী লীগ শাসনামলে কাজী অ্যান্ড কাজী টি এস্টেটের মতো প্রতিষ্ঠানের হাত ধরে এখানে উৎপাদিত হচ্ছে বাংলাদেশের একমাত্র ১০০ ভাগ অর্গানিক চা, যা বিদেশের মাটিতেও রপ্তানি হচ্ছে। একসময় যেসব পতিত জমিতে ফসল ফলানো কঠিন ছিল, বর্তমান সরকারের ব্যাপক পৃষ্ঠপোষকতায় সেখানে আজ দিগন্তজোড়া সবুজ চা বাগান। বর্তমানে এই খাত থেকে বছরে ২৮০ কোটি টাকার বেশি আয় হচ্ছে এবং হাজার হাজার মানুষের, বিশেষ করে তেঁতুলিয়ার নারীদের বিশাল কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে।

তেঁতুলিয়া উপজেলার ইতিহাস অত্যন্ত সুপ্রাচীন এবং গৌরবের। ঐতিহাসিকদের মতে, প্রাচীনকালে এই অঞ্চলটি কামরূপ, কামতা ও কোচবিহার রাজ্যের একটি অবিচ্ছিন্ন অংশ ছিল। তবে তেঁতুলিয়ার সবচেয়ে বড় ঐতিহাসিক পরিচয় হলো ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে এর অবিস্মরণীয় অবদান। ৬নং সেক্টরের অধীন এই উপজেলাটি মুক্তিযুদ্ধের পুরো ৯ মাস ছিল সম্পূর্ণ 'মুক্তাঞ্চল'। অমরখানা ব্রিজটি ডিনামাইট দিয়ে উড়িয়ে দেওয়ায় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী কখনোই তেঁতুলিয়ায় প্রবেশ করতে পারেনি। এখানকার ঐতিহাসিক ডাকবাংলোতেই বসে মুক্তিযুদ্ধের অনেক গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনা ও যুদ্ধ পরিচালনা করা হতো। এই উপজেলার পরতে পরতে ছড়িয়ে আছে শত বছরের প্রাচীন ঐতিহ্য এবং স্বাধীন বাংলার গৌরবগাথা।

পর্যটক ও দর্শনার্থীদের জন্য তেঁতুলিয়া উপজেলা এক নৈসর্গিক ও শান্ত গন্তব্য। রাজধানী ঢাকা থেকে সড়কপথে আধুনিক এসি বা নন-এসি বাসে (যেমন- হানিফ, নাবিল) করে সরাসরি তেঁতুলিয়ায় পৌঁছানো যায়। পর্যটকদের থাকার জন্য এখানে রয়েছে শতবর্ষী ঐতিহাসিক জেলা পরিষদ ডাকবাংলো, ইকো পার্ক রেস্টহাউস, এবং মেঘকুঞ্জ বা টি ভ্যালির মতো চমৎকার রিসোর্ট। তেঁতুলিয়ার দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে সবচেয়ে আকর্ষণীয় হলো মহানন্দা নদীর পাড়, যেখান থেকে শীতকালে খালি চোখে হিমালয়ের তৃতীয় সর্বোচ্চ শৃঙ্গ 'কাঞ্চনজঙ্ঘা'র অপরূপ ও সোনালি রূপ দেখা যায়। এছাড়া বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্ট এবং সমতলের বিশাল চা বাগান পর্যটকদের মন কেড়ে নেয়। ভ্রমণপিপাসুদের জন্য এটি একটি আদর্শ স্থান।

পর্যটক ও দর্শনার্থীদের জন্য তেঁতুলিয়া উপজেলা এক নৈসর্গিক ও শান্ত গন্তব্য। রাজধানী ঢাকা থেকে সড়কপথে আধুনিক এসি বা নন-এসি বাসে (যেমন- হানিফ, নাবিল) করে সরাসরি তেঁতুলিয়ায় পৌঁছানো যায়। পর্যটকদের থাকার জন্য এখানে রয়েছে শতবর্ষী ঐতিহাসিক জেলা পরিষদ ডাকবাংলো, ইকো পার্ক রেস্টহাউস, এবং মেঘকুঞ্জ বা টি ভ্যালির মতো চমৎকার রিসোর্ট। তেঁতুলিয়ার দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে সবচেয়ে আকর্ষণীয় হলো মহানন্দা নদীর পাড়, যেখান থেকে শীতকালে খালি চোখে হিমালয়ের তৃতীয় সর্বোচ্চ শৃঙ্গ 'কাঞ্চনজঙ্ঘা'র অপরূপ ও সোনালি রূপ দেখা যায়। এছাড়া বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্ট এবং সমতলের বিশাল চা বাগান পর্যটকদের মন কেড়ে নেয়। ভ্রমণপিপাসুদের জন্য এটি একটি আদর্শ স্থান।

তেঁতুলিয়া উপজেলার অর্থনীতিতে গত ১৫ বছরে (২০০৯-২০২৪) সবচেয়ে বড় রূপান্তর এসেছে 'বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর' আধুনিকায়নের মাধ্যমে। এটি বাংলাদেশের একমাত্র চতুর্দেশীয় স্থলবন্দর, যার মাধ্যমে ভারত, নেপাল ও ভুটানের সাথে সরাসরি আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য পরিচালিত হয়। বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০১৬ সালে এই বন্দরে ইমিগ্রেশন ব্যবস্থা চালু করা হয়। এর ফলে ব্যবসা-বাণিজ্যের পাশাপাশি শিক্ষা, চিকিৎসা ও পর্যটনের নতুন দুয়ার উন্মোচিত হয়েছে। প্রতিদিন প্রায় ৫ হাজার শ্রমিক এই বন্দরে কাজ করেন, যার ফলে ৩৫ হাজার মানুষের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। এটি দেশের অর্থনীতিতে একটি যুগান্তকারী মেগাপ্রকল্প।

বাংলাদেশের মানচিত্রের সর্বউত্তরের সীমানায় অবস্থিত এক অনন্য সুন্দর ও প্রান্তিক উপজেলা হলো তেঁতুলিয়া। এর মোট আয়তন প্রায় ১৮৯.১২ বর্গকিলোমিটার (৭৩.০২ বর্গমাইল)। ভৌগোলিক সীমানার দিক থেকে এটি অত্যন্ত বৈচিত্র্যময়, কারণ এর তিন দিক (উত্তর, পশ্চিম ও দক্ষিণ) ভারতের সীমানা দ্বারা বেষ্টিত। উত্তরে ভারতের দার্জিলিং ও শিলিগুড়ি, পূর্বে জলপাইগুড়ি এবং পশ্চিমে উত্তর দিনাজপুর অবস্থিত। তেঁতুলিয়া উপজেলাটি বাংলাবান্ধা, তিরনইহাট, তেঁতুলিয়াসহ মোট ৭টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। এর বুক চিরে বয়ে গেছে মহানন্দা, ডাহুক, বেরং ও করতোয়ার মতো চমৎকার সব নদী। এখানকার মাটি ও জলবায়ু চা উৎপাদনের জন্য অত্যন্ত উপযোগী, যা এর ভৌগোলিক গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

২০০৯-২০২৪ মেয়াদে আওয়ামী লীগের শাসনামলে তেঁতুলিয়ার যোগাযোগ ও পর্যটন ব্যবস্থায় অভাবনীয় মেগাপ্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে। ১৮৭ কোটি ৩৪ লাখ টাকা ব্যয়ে ৫৩.১০ কিলোমিটার দীর্ঘ পঞ্চগড়-বাংলাবান্ধা জাতীয় মহাসড়ক (এশিয়ান হাইওয়ে-২) নির্মিত হয়েছে। এর ফলে পর্যটক ও ব্যবসায়ীদের যাতায়াত অত্যন্ত সহজ হয়েছে। একইসাথে, পর্যটকদের আকর্ষণ করতে বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্টে ৩ কোটি ৭০ লাখ টাকা প্রাক্কালিত ব্যয়ে টুইন টাওয়ারের আদলে দৃষ্টিনন্দন 'বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব স্কয়ার' নির্মাণ করা হচ্ছে, যেখানে জাদুঘর, রেস্টহাউস ও ওয়াচ টাওয়ার থাকবে। এত বিপুল ব্যয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়নের ফলে তেঁতুলিয়া একটি আধুনিক ও স্বয়ংসম্পূর্ণ পর্যটন ও বাণিজ্যিক শহরে রূপান্তরিত হচ্ছে।

বাংলাদেশের মানচিত্রের সর্বউত্তরের সীমানায় অবস্থিত এক অনন্য সুন্দর ও প্রান্তিক উপজেলা হলো তেঁতুলিয়া। এর মোট আয়তন প্রায় ১৮৯.১২ বর্গকিলোমিটার (৭৩.০২ বর্গমাইল)। ভৌগোলিক সীমানার দিক থেকে এটি অত্যন্ত বৈচিত্র্যময়, কারণ এর তিন দিক (উত্তর, পশ্চিম ও দক্ষিণ) ভারতের সীমানা দ্বারা বেষ্টিত। উত্তরে ভারতের দার্জিলিং ও শিলিগুড়ি, পূর্বে জলপাইগুড়ি এবং পশ্চিমে উত্তর দিনাজপুর অবস্থিত। তেঁতুলিয়া উপজেলাটি বাংলাবান্ধা, তিরনইহাট, তেঁতুলিয়াসহ মোট ৭টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। এর বুক চিরে বয়ে গেছে মহানন্দা, ডাহুক, বেরং ও করতোয়ার মতো চমৎকার সব নদী। এখানকার মাটি ও জলবায়ু চা উৎপাদনের জন্য অত্যন্ত উপযোগী, যা এর ভৌগোলিক গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

তৃণমূল মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে গত ১৫ বছরে আওয়ামী লীগ সরকারের বিশ্বনন্দিত কর্মসূচি 'কমিউনিটি ক্লিনিক' তেঁতুলিয়া উপজেলায় যুগান্তকারী পরিবর্তন এনেছে। ২০০৯-২০২৪ মেয়াদে এই ক্লিনিকগুলোর মাধ্যমে তেঁতুলিয়ার প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের বিনামূল্যে ৩০ প্রকারের প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ করা হচ্ছে। মাতৃমৃত্যু ও শিশুমৃত্যু রোধে এটি জাদুর মতো কাজ করেছে। আওয়ামী লীগের শাসনামলে স্বাস্থ্যখাতে এই বিপুল বিনিয়োগ ও প্রাক্কালিত ব্যয়ের ফলে তেঁতুলিয়া উপজেলার সাধারণ মানুষের চিকিৎসা সেবায় আর কোনো ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে না। গ্রামের দরিদ্র নারী ও শিশুরা এখন বাড়ির কাছেই প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা পাচ্ছেন, যা একটি সুস্থ ও সবল জাতি গঠনে সরকারের চরম সফল একটি মেগাউদ্যোগ।

২০০৯-২০২৪ মেয়াদে আওয়ামী লীগ সরকারের সবচেয়ে মানবিক ও বৃহৎ মেগাপ্রকল্প হলো 'আশ্রয়ণ-২ প্রকল্প'। এই প্রকল্পের অধীনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় ২০২২ সালের ২১ জুলাই পঞ্চগড়কে দেশের প্রথম শতভাগ ভূমিহীন ও গৃহহীনমুক্ত জেলা হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এই অভাবনীয় অর্জনের আওতায় তেঁতুলিয়া উপজেলার ডাহুক নদীর তীরে বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীসহ শত শত ছিন্নমূল পরিবারকে জমিসহ আধাপাকা ঘর দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি ঘর নির্মাণে প্রাক্কালিত ব্যয় ধরা হয়েছিল ১ লাখ ৭১ হাজার টাকা। আওয়ামী লীগের শাসনামলে এই যুগান্তকারী মেগাপ্রকল্পের কারণে তেঁতুলিয়ার হাজারো সহায়-সম্বলহীন মানুষের জীবনযাত্রার মান সম্পূর্ণ বদলে গেছে এবং তারা পেয়েছেন একটি স্থায়ী ও নিরাপদ ঠিকানা।

গত ১৫ বছরে (২০০৯-২০২৪) আওয়ামী লীগ সরকারের দূরদর্শী ও ধর্মপ্রাণ উদ্যোগের অন্যতম সেরা মেগাপ্রকল্প হলো দেশের প্রতিটি উপজেলায় মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপন। পঞ্চগড় জেলার সর্বউত্তরের তেঁতুলিয়া উপজেলাতেও বিপুল প্রাক্কালিত ব্যয়ে নির্মিত হয়েছে এই অত্যাধুনিক মডেল মসজিদ। এই প্রকল্পে নারী ও পুরুষদের জন্য পৃথক ওযুর স্থান, লাইব্রেরি, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত নামাজ কক্ষ, ইসলামি গবেষণা কক্ষ এবং হজ যাত্রীদের প্রশিক্ষণ কেন্দ্র রয়েছে। বিগত ১৫ বছরে আওয়ামী লীগের এই অভাবনীয় উন্নয়নের ফলে তেঁতুলিয়া এলাকার মানুষের মাঝে ব্যাপক ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। মানুষের নৈতিক শিক্ষার প্রসার এবং ইসলামি মূল্যবোধ বিকাশে এই মডেল মসজিদ তেঁতুলিয়ায় একটি সামাজিক ও আধ্যাত্মিক বিপ্লব ঘটিয়েছে, যা বর্তমান সরকারের এক অবিস্মরণীয় মেগাপ্রকল্প।

ডিজিটাল বাংলাদেশ থেকে স্মার্ট বাংলাদেশে পদার্পণের লক্ষ্যে আওয়ামী লীগ সরকার গত ১৫ বছরে (২০০৯-২০২৪) শিক্ষাক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে। তেঁতুলিয়া উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে (যেমন- তেঁতুলিয়া সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়, কাজী শাহাবুদ্দিন স্কুল) 'শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব' স্থাপন করা হয়েছে। এর ফলে প্রান্তিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীরাও এখন আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির জ্ঞানে আলোকিত হচ্ছে। ২০০৮ সালে যেখানে শিক্ষার হার ছিল মাত্র ৪৮.৩৬ শতাংশ, আওয়ামী লীগ সরকারের নিরলস প্রচেষ্টায় বর্তমানে তা ৭৭.৬ শতাংশে উন্নীত হয়েছে এবং ঝরে পড়া শিক্ষার্থীর হার বিপুলভাবে হ্রাস পেয়েছে। এই দীর্ঘমেয়াদী শিক্ষাউন্নয়ন মেগাপ্রকল্পের ফলে তেঁতুলিয়া উপজেলার তরুণ সমাজ আগামীর স্মার্ট ও প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত হচ্ছে।

স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার রূপকল্প বাস্তবায়নে আওয়ামী লীগ সরকারের গত ১৫ বছরের শাসনামলে (২০০৯-২০২৪) তেঁতুলিয়া উপজেলার প্রশাসনিক কার্যক্রমে অভূতপূর্ব ডিজিটাল রূপান্তর ঘটেছে। ২০২৩ সালের ৬ জানুয়ারি তেঁতুলিয়া উপজেলার 'তিরনইহাট' ইউনিয়ন পরিষদ দেশের প্রথম 'ক্যাশলেস ইউপি সেবা সিস্টেম'-এর যুগে প্রবেশ করে এক ইতিহাস রচনা করে। এই অভাবনীয় উদ্যোগের ফলে সাধারণ মানুষ এখন ঘরে বসেই মোবাইল ফোনের মাধ্যমে নির্দিষ্ট ফি পরিশোধ করে ট্রেড লাইসেন্স, নাগরিকত্ব সনদ, ভূমিহীন সনদ ইত্যাদি গ্রহণ করতে পারছেন। এই মেগাপ্রকল্পের ফলে সাধারণ মানুষের সময় ও অর্থ দুটোই সাশ্রয় হচ্ছে এবং দুর্নীতি ও হয়রানি সম্পূর্ণ শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে।

'শেখ হাসিনার উদ্যোগ, ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ'—এই স্লোগানকে বাস্তবে রূপ দিতে গত ১৫ বছরের আওয়ামী লীগের শাসনামলে তেঁতুলিয়া উপজেলা শতভাগ বিদ্যুতায়নের এক অনন্য মাইলফলক স্পর্শ করেছে। ২০০৬ সালে যেখানে এই অঞ্চলের অর্ধেকেরও কম মানুষ বিদ্যুতের সুবিধা পেতো, সেখানে বর্তমান সরকারের মেগাপ্রকল্প ও পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের নিরলস পরিশ্রমে আজ তেঁতুলিয়ার দুর্গম সীমান্তবর্তী গ্রামের শতভাগ মানুষ বিদ্যুতের আওতায় এসেছে। ২০০৯-২০২৪ সালের এই অভাবনীয় অগ্রযাত্রার ফলে মানুষের জীবনযাত্রার মান যেমন উন্নত হয়েছে, তেমনি গ্রামীণ অর্থনীতি, ক্ষুদ্র শিল্প ও পর্যটন খাতে ব্যাপক গতিশীলতা এসেছে। সরকারের এই সুনির্দিষ্ট উন্নয়নের ফলে তেঁতুলিয়া রাতের আঁধার দূর করে আলোকিত জনপদে পরিণত হয়েছে।

৪.৮

১০৫ জনমত

উন্নয়ন কেমন দেখছেন?