বিস্ময়কর অগ্রযাত্রায়

হবিগঞ্জ আজমিরীগঞ্জ উপজেলা

ডিজিটাল আর্কাইভে স্বাগতম

"হবিগঞ্জ আজমিরীগঞ্জ" উপজেলার উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রা

আজমিরীগঞ্জ উপজেলা ডিরেক্টরি

আজমিরীগঞ্জ আবাসন খাত (আশ্রয়ণ-২ প্রকল্প):

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ‘আশ্রয়ণ-২’ প্রকল্প বা ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের শেখ হাসিনা মডেল’-এর মাধ্যমে দেশের ভূমিহীন ও গৃহহীন মানুষের জন্য যুগান্তকারী আবাসন সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে।

বিনামূল্যে ঘর ও জমি: প্রতিটি ভূমিহীন পরিবারকে ২ শতক সরকারি খাস জমির মালিকানাসহ ২ কক্ষ, ১টি রান্নাঘর, ১টি টয়লেট ও বারান্দা বিশিষ্ট আধা-পাকা ঘর দেওয়া হয়েছে।

নারীর ক্ষমতায়ন ও যৌথ মালিকানা: এই প্রকল্পে স্বামী ও স্ত্রীর যৌথ নামে জমির দলিল প্রদান করা হয়, যা গ্রামীণ নারীদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করেছে।

নাগরিক সুবিধা: শুধু ঘরই নয়, এই আবাসনের সাথে বিনামূল্যে বিদ্যুৎ সংযোগ এবং সুপেয় পানির ব্যবস্থাও নিশ্চিত করা হয়েছে।
ব্যাপক পুনর্বাসন: ১ম থেকে ৫ম পর্যায় পর্যন্ত দেশব্যাপী লক্ষাধিক পরিবারকে এই প্রকল্পের মাধ্যমে পুনর্বাসিত করে মাথা গোঁজার স্থায়ী ঠিকানা দেওয়া হয়েছে।

২. ভৌত অবকাঠামো ও যোগাযোগ (এলজিইডি এবং বিদ্যুৎ): হাওরবেষ্টিত আজমিরীগঞ্জ উপজেলার ভৌত অবকাঠামো, বিশেষ করে যোগাযোগ ও বিদ্যুৎ খাতে ব্যাপক রূপান্তর ঘটেছে।

পাকা সড়ক নির্মাণ (LGED): গ্রামীণ যোগাযোগ সহজ করতে আজমিরীগঞ্জে এলজিইডি (LGED)-এর মাধ্যমে বেশ কিছু মেগাপ্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:

আজমিরীগঞ্জ-পশ্চিমবাগ সড়ক:

৩.৬৩ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কটিকে ৪৮৪.৪৪ লাখ টাকা ব্যয়ে আরসিসি (RCC) দ্বারা উন্নত করা হয়েছে।

আজমিরীগঞ্জ-পাহাড়পুর সড়ক:

বন্যা সহনশীল যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়তে এই সড়কের বিভিন্ন অংশে (যেমন: ১২ কিমি থেকে ১৫.৮৯ কিমি পর্যন্ত ৭৫৭.৬১ লাখ টাকা ব্যয়ে এবং ৮.৬ কিমি থেকে ১২ কিমি পর্যন্ত ৭২৭.৭৯ লাখ টাকা ব্যয়ে) আরসিসি ঢালাইয়ের কাজ করা হয়েছে।

কাকাইলছেও-রসুলপুর সড়ক: ২১২.৭৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ২.৭২ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কটির আরসিসি উন্নয়ন সম্পন্ন হয়েছে।

আজমিরীগঞ্জ- পাহাড়পুর-বানিয়াচং সড়ক:

ঝিলসুইক হয়ে পাহাড়পুর থেকে বানিয়াচং পর্যন্ত ৯.০২ কিলোমিটার সড়কের পুনর্বাসন কাজ করা হয়েছে, যার ফলে পার্শ্ববর্তী উপজেলার সাথে যোগাযোগ অনেক সহজ হয়েছে।

খাল ও হাওর উন্নয়ন: কৃষিকাজ ও পানি নিষ্কাশনের সুবিধার্থে আজমিরীগঞ্জের ধানগাং বিল, শাপলা খাল এবং জলসুখা থেকে শিবপাশা পর্যন্ত কাইড়ঢালা খাল পুনঃখনন করা হয়েছে।

শতভাগ বিদ্যুতায়ন: ‘শেখ হাসিনার উদ্যোগ- ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ’ কর্মসূচির আওতায় হবিগঞ্জ জেলাসহ সারাদেশে শতভাগ বিদ্যুতায়ন সম্পন্ন হয়েছে। হবিগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির অধীনে ৭টি সাবস্টেশন এবং ৫,২০৭ কিলোমিটার বিতরণ লাইনের মাধ্যমে এই অঞ্চলের মানুষ এখন নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পাচ্ছেন।

১. গত ১৫ বছরের আওয়ামী লীগ শাসনামলে (২০০৯-২০২৪) উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রা: হাওরবেষ্টিত এবং দুর্যোগপ্রবণ আজমিরীগঞ্জ উপজেলা গত ১৫ বছরে একটি বিচ্ছিন্ন জনপদ থেকে আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা ও উন্নত নাগরিক সুবিধার এক ‘স্মার্ট হাওর’ মডেলে রূপান্তরিত হয়েছে। উন্নয়নের প্রধান খাতগুলো হলো:

(ক) ভৌত অবকাঠামো ও হাওর উন্নয়ন (LGED): বন্যার পানির প্রবল স্রোত থেকে রক্ষার্থে সাধারণ পিচের রাস্তার পরিবর্তে আজমিরীগঞ্জে এলজিইডি (LGED)-এর মাধ্যমে বিপুল ব্যয়ে আরসিসি (RCC) সড়ক নির্মিত হয়েছে। এর মধ্যে ৩.৬৩ কিমি দীর্ঘ পশ্চিমবাগ-আজমিরীগঞ্জ সড়ক এবং ৩.৮৯ কিমি দীর্ঘ আজমিরীগঞ্জ-পাহাড়পুর সড়ক উল্লেখযোগ্য   

এছাড়া ‘হাওর বন্যা ব্যবস্থাপনা ও জীবনমান উন্নয়ন প্রকল্প’ (HFMLIP)-এর আওতায় ধানগাং বিল, শাপলা খাল এবং কাইড়ঢালা খাল পুনঃখনন করে কৃষিতে সেচ সুবিধা ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা হয়েছে  Comprehensive Assessment of Infrastructure, Social Housing, and Cultural Development in Ajmiriganj Upazila: A Longitudinal Study (2009–2024) Haor Flood Management and Livelihood Improvement Project (LGED Part)

(খ) আশ্রয়ণ-২ প্রকল্প (ভূমিহীনদের গৃহ): হাওর অঞ্চলে বন্যা ও নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত ভূমিহীন মানুষের স্থায়ী ঠিকানা নিশ্চিত করতে ‘আশ্রয়ণ-২’ প্রকল্পের মাধ্যমে শত শত পরিবারকে ২ শতক সরকারি খাস জমিসহ আধা-পাকা ঘর প্রদান করা হয়েছে   । বিনামূল্যে বিদ্যুৎ ও সুপেয় পানির ব্যবস্থাসহ স্বামী-স্ত্রীর যৌথ মালিকানায় দেওয়া এই ঘরগুলো নারীদের ক্ষমতায়নে বিশেষ ভূমিকা রেখেছে   

(গ) মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র: ধর্ম চর্চা ও সামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে ৯,৪৩৫ কোটি টাকার জাতীয় মেগাপ্রকল্পের অধীনে আজমিরীগঞ্জ উপজেলা সদরে ‘বি-ক্যাটাগরি’ ভুক্ত ৩ তলা বিশিষ্ট দৃষ্টিনন্দন মডেল মসজিদ (১,৬৮০.১৪ বর্গমিটার) নির্মাণ করা হয়েছে  । এখানে নারী ও পুরুষদের আলাদা নামাজ, হজ্জ নিবন্ধন, ইসলামিক লাইব্রেরি এবং অটিজম কর্নারের আধুনিক সুবিধা রয়েছে   

(ঘ) স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষা: কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে বিনামূল্যে ওষুধ বিতরণ এবং সুপেয় পানীয় জলের ব্যবস্থার ফলে হাওর অঞ্চলে পানিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে  

এই উপজেলার উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রার তথ্য আরও শীঘ্রই আপডেট করা হচ্ছে। 

একনজরে "হবিগঞ্জ আজমিরীগঞ্জ" এর ভ্রমণ তথ্য

২. একনজরে ভ্রমণ তথ্য:
  • কোথায় যাবেন/ দর্শনীয় স্থান: বর্ষাকালে কালনী, কুশিয়ারা ও খোয়াই নদীর পানিতে নিমজ্জিত দিগন্ত বিস্তৃত আজমিরীগঞ্জ হাওর পর্যটকদের জন্য এক অনন্য আকর্ষণ ‘হাওর ট্যুরিজম’-এর সুযোগ তৈরি করে  । এছাড়া ১৮০০ দশকের ব্রিটিশ আমলের ঐতিহাসিক ‘চৌকি আদালত’ (Chouki Court) এবং প্রাচীন নদীবন্দর (River Port) পর্যটকদের মুগ্ধ করে    
  • যাতায়াত ব্যবস্থা: ঢাকা বা সিলেট থেকে হবিগঞ্জ সদরে এসে খুব সহজেই উন্নত আরসিসি (RCC) সড়কপথে অথবা নৌপথে আজমিরীগঞ্জে ভ্রমণ করা যায়।

ভৌগোলিক অবস্থান ও সীমানা

৩. ভৌগোলিক অবস্থান ও সীমানা:
  • কালনী, কুশিয়ারা ও খোয়াই নদীবেষ্টিত আজমিরীগঞ্জ উপজেলার মোট আয়তন ২২৩.৯৮ বর্গ কিলোমিটার   
  • ২০২২ সালের শুমারি অনুযায়ী এখানকার মোট জনসংখ্যা ১,২৬,৩২৪ জন এবং জনসংখ্যার ঘনত্ব প্রায় ৫৬৪ জন প্রতি বর্গ কিলোমিটারে  
  • উপজেলাটি ১টি পৌরসভা এবং ৫টি ইউনিয়ন (আজমিরীগঞ্জ, বদলপুর, জলসুখা, কাকাইলছেও এবং শিবপাশা) নিয়ে গঠিত  । এর উত্তরে সুনামগঞ্জ জেলার শাল্লা ও দিরাই উপজেলা অবস্থিত  

উপজেলার ইতিহাস ও ঐতিহ্য

৪. ইতিহাস ও ঐতিহ্য:
  • প্রাচীনকালে এই অঞ্চলটি ‘আজমর্দান’ (Azmardan) রাজ্য নামে পরিচিত ছিল। ১৩০৩ সালে হযরত শাহজালালের (রহ.) সিলেট বিজয়ের অনেক আগেই ১২৫৪ সালে বাংলার গভর্নর মালিক ইখতিয়ারুদ্দিন ইয়ুজবক এই অঞ্চল জয় করেন   
  • ১৮০০ দশকে সুফি সাধক সৈয়দ ইসহাক চিশতী ভারতের আজমের শরিফ থেকে এখানে এসে বসবাস শুরু করেন এবং তিনি ‘আজমিরী বাবা’ নামে পরিচিতি লাভ করেন। পরবর্তীতে তার সম্মানার্থে এই অঞ্চলের নামকরণ করা হয় আজমিরীগঞ্জ   
  • ১৯৭১ সালের ১৬ই নভেম্বর মহান মুক্তিযুদ্ধে এই স্থানে পাকবাহিনীর সাথে ১৮ ঘণ্টার এক সম্মুখ যুদ্ধে বীর মুক্তিযোদ্ধা জগৎজ্যোতি দাসসহ ১১ জন নিরীহ গ্রামবাসী শহীদ হন, যা এই জনপদের ইতিহাসে এক গৌরবোজ্জ্বল ও আত্মত্যাগের অধ্যায়   

🏗️ উন্নয়ন প্রকল্পসমূহ

স্লাইড ১: আজমিরীগঞ্জ উপজেলার ১৫ বছরের উন্নয়ন যাত্রা (২০০৯-২০২৪) ভিজ্যুয়াল বিবরণ: আজমিরীগঞ্জের হাওরের সৌন্দর্য এবং আধুনিক আরসিসি (RCC) রাস্তার একটি কোলাজ ছবি, সাথে মোট উন্নয়নের একটি সামগ্রিক চার্ট। ক্যাপশন: এই স্লাইডটিতে গত ১৫ বছরে (২০০৯-২০২৪) বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে হবিগঞ্জ জেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হাওরবেষ্টিত আজমিরীগঞ্জ উপজেলার সামগ্রিক উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রার চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। বন্যাকবলিত ও দুর্গম একটি উপজেলা কীভাবে আধুনিক ভৌত অবকাঠামো, মডেল মসজিদ, স্বাস্থ্যসেবা এবং আশ্রয়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে একটি 'স্মার্ট হাওর' জনপদে রূপান্তরিত হয়েছে, তা এই ইনফোগ্রাফিকের মাধ্যমে স্পষ্টভাবে প্রদর্শিত হয়েছে।

স্লাইড ৩: নারী ক্ষমতায়ন ও যৌথ মালিকানা (আশ্রয়ণ প্রকল্প) ভিজ্যুয়াল বিবরণ: ঘরের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা স্বামী ও স্ত্রীর একটি হাসিমুখের ছবি এবং একটি জমির দলিল হস্তান্তরের আইকন। ক্যাপশন: আজমিরীগঞ্জ উপজেলার আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের অন্যতম বড় একটি সাফল্য হলো তৃণমূল পর্যায়ের নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন এবং সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি। এই স্লাইডটিতে দেখানো হয়েছে কীভাবে বিনামূল্যে দেওয়া ২ শতক জমি এবং দুর্যোগ-সহনশীল বাড়ির দলিলের মালিকানা স্বামী ও স্ত্রী উভয়ের যৌথ নামে নিবন্ধন করা হয়েছে, যা গ্রামীণ দরিদ্র পরিবারগুলোতে নারীদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা বহুলাংশে বৃদ্ধি করে পারিবারিক সুরক্ষা নিশ্চিত করেছে।

স্লাইড ৫: এলজিইডি (LGED)-এর ভৌত অবকাঠামো ও আরসিসি (RCC) সড়ক ভিজ্যুয়াল বিবরণ: এলজিইডি নির্মিত পশ্চিমবাগ-আজমিরীগঞ্জ সড়কের আধুনিক আরসিসি (RCC) ঢালাইয়ের দৃশ্য। ক্যাপশন: হাওরবেষ্টিত আজমিরীগঞ্জ উপজেলার যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক যুগান্তকারী পরিবর্তন এনেছে এলজিইডি (LGED)। বন্যা ও পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি এড়াতে এখানকার রাস্তাগুলো সাধারণ পিচের বদলে টেকসই আরসিসি (RCC) দিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে। এই স্লাইডে পশ্চিমবাগ-আজমিরীগঞ্জ সড়ক (৩.৬৩ কিমি) এবং আজমিরীগঞ্জ-পাহাড়পুর সড়কের (৩.৮৯ কিমি) মতো মেগাপ্রকল্পগুলোর চিত্র তুলে ধরা হয়েছে, যা সারা বছর নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ নিশ্চিত করেছে।

স্লাইড ৬: হাওর বন্যা ব্যবস্থাপনা প্রকল্প (HFMLIP) ও খাল খনন ভিজ্যুয়াল বিবরণ: এলসিএস (LCS) বা শ্রমিকদের মাধ্যমে হাওর এলাকার খাল খননের দৃশ্য। ক্যাপশন: আজমিরীগঞ্জের হাওর ও কৃষিজমিকে আগাম বন্যার হাত থেকে রক্ষা করতে 'হাওর বন্যা ব্যবস্থাপনা ও জীবনমান উন্নয়ন প্রকল্প' (HFMLIP) বাস্তবায়িত হয়েছে। এই স্লাইডটিতে দেখানো হয়েছে কীভাবে এলসিএস (LCS) বা শ্রমিক কর্মসংস্থান সমিতির মাধ্যমে ধানগাং বিল, শাপলা খাল এবং কাইড়ঢালা খাল পুনঃখনন করা হয়েছে, যা স্থানীয় কৃষকদের সেচ সুবিধা বৃদ্ধি এবং জলাবদ্ধতা নিরসনে বিরাট অবদান রাখছে।

স্লাইড ৭: হাওরে আধুনিক ব্রিজ নির্মাণ ও পানিব্যবস্থাপনা ভিজ্যুয়াল বিবরণ: হাওর এলাকার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া একটি সুদীর্ঘ পিসি (PC) গার্ডার বা আরসিসি (RCC) ব্রিজের দৃশ্য। ক্যাপশন: হাওর অঞ্চলে ব্রিজ বা সেতু শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়, বরং এটি পানি নিষ্কাশন ও বন্যা নিয়ন্ত্রণেরও অন্যতম প্রধান হাতিয়ার। এই স্লাইডে এলজিইডি (LGED) কর্তৃক নির্মিত বড় বড় আরসিসি (RCC) সেতু ও কালভার্টের চিত্র উপস্থাপন করা হয়েছে, যেগুলো বর্ষাকালে নৌ চলাচলের সুবিধা দেওয়ার পাশাপাশি পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করে আকস্মিক বন্যার (Flash flood) ঝুঁকি বহুলাংশে কমিয়ে এনেছে।

স্লাইড ২: আশ্রয়ণ-২ প্রকল্প - হাওরে ভূমিহীনদের নিরাপদ ঠিকানা ভিজ্যুয়াল বিবরণ: আজমিরীগঞ্জের হাওর এলাকার কাছে নির্মিত আধা-পাকা ঘরের সারি এবং সুবিধাভোগী সাধারণ মানুষের হাস্যোজ্জ্বল ছবি। ক্যাপশন: বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকারের যুগান্তকারী পদক্ষেপ 'আশ্রয়ণ-২' প্রকল্পের আওতায় আজমিরীগঞ্জ উপজেলায় ভূমিহীন ও গৃহহীনদের জন্য আধা-পাকা ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। এই স্লাইডে দেখানো হয়েছে কীভাবে হাওর এলাকার প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বন্যার হাত থেকে রক্ষা পেতে প্রতিটি প্রান্তিক পরিবারকে ২ শতক সরকারি খাস জমিসহ টেকসই ঘর, বিনামূল্যে বিদ্যুৎ এবং গভীর নলকূপের মাধ্যমে নিরাপদ সুপেয় পানির সুবিধা প্রদান করে তাদের জীবনমান উন্নয়ন করা হয়েছে।

স্লাইড ৪: মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ভিজ্যুয়াল বিবরণ: আজমিরীগঞ্জের ৩ তলা বিশিষ্ট দৃষ্টিনন্দন 'বি-ক্যাটাগরি' মডেল মসজিদের ছবি। ইনফোগ্রাফিকে ১,৬৮০.১৪ বর্গমিটার আয়তন এবং সুবিধার তালিকা। ক্যাপশন: ধর্ম চর্চা এবং ইসলামিক মূল্যবোধের সঠিক বিকাশের লক্ষ্যে ৯,৪৩৫ কোটি টাকার জাতীয় মেগাপ্রকল্পের অধীনে আজমিরীগঞ্জ উপজেলা সদরে একটি দৃষ্টিনন্দন 'বি-ক্যাটাগরি' মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে। এই স্লাইডে ১,৬৮০.১৪ বর্গমিটার আয়তনের ৩ তলা বিশিষ্ট ভবনের ছবি তুলে ধরা হয়েছে, যেখানে নারী ও পুরুষদের আলাদা নামাজ, হজ্জ নিবন্ধন, ইসলামিক লাইব্রেরি এবং অটিজম কর্নারের মতো আধুনিক সুবিধা রয়েছে।

স্লাইড ৮: তৃণমূল স্বাস্থ্যসেবা - আধুনিক কমিউনিটি ক্লিনিক ভিজ্যুয়াল বিবরণ: একটি আধুনিক কমিউনিটি ক্লিনিকে চিকিৎসাসেবা নিচ্ছেন গ্রামীণ নারী ও শিশুরা। ক্যাপশন: হাওর এলাকার প্রান্তিক মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের অনন্য চিত্র এটি। আজমিরীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে স্থাপিত আধুনিক কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোর মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবায় ব্যাপক উন্নতি ঘটেছে। এই স্লাইডে দেখানো হয়েছে কীভাবে বিনামূল্যে ওষুধ বিতরণ, সুপেয় পানির ব্যবস্থা এবং স্যানিটেশনের উন্নয়নের ফলে এই অঞ্চলে পানিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে এবং মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্য সুরক্ষিত হয়েছে।

স্লাইড ১০: আজমিরীগঞ্জের ভৌগোলিক অবস্থান ও সীমানা ভিজ্যুয়াল বিবরণ: আজমিরীগঞ্জ উপজেলার একটি ডিজিটাল ম্যাপ, যেখানে ৫টি ইউনিয়ন এবং ২২৩.৯৮ বর্গ কিমি আয়তনের ডেটা দেওয়া আছে। ক্যাপশন: এই স্লাইডটিতে কালনী, কুশিয়ারা ও খোয়াই নদীবেষ্টিত আজমিরীগঞ্জ উপজেলার ভৌগোলিক পরিচিতি তুলে ধরা হয়েছে। ২২৩.৯৮ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের এই উপজেলাটি ১টি পৌরসভা এবং ৫টি ইউনিয়ন (যেমন- আজমিরীগঞ্জ, বদলপুর, জলসুখা, কাকাইলছেও এবং শিবপাশা) নিয়ে গঠিত। এখানকার হাওর ইকোসিস্টেম এবং পার্শ্ববর্তী উপজেলা ও সুনামগঞ্জ জেলার সাথে এর সীমানা নির্দেশক তথ্যগুলো ডিজিটাল ম্যাপ ও ইনফোগ্রাফিকের সাহায্যে খুব সুন্দরভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

স্লাইড ১১: ইতিহাস ও ঐতিহ্য - আজমর্দান থেকে আজমিরীগঞ্জ ভিজ্যুয়াল বিবরণ: প্রাচীন সুফি সাধকের প্রতীকী স্মৃতি এবং ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের বীরত্বের কোনো কাল্পনিক বা ঐতিহাসিক পোর্ট্রেট। ক্যাপশন: আজমিরীগঞ্জ উপজেলার রয়েছে এক সুদীর্ঘ ও বীরত্বপূর্ণ ইতিহাস। প্রাচীনকালে এটি 'আজমর্দান' (Azmardan) রাজ্য নামে পরিচিত ছিল। পরবর্তীতে সুফি সাধক সৈয়দ ইসহাক চিশতী বা 'আজমিরী বাবা'-এর নামানুসারে এর নামকরণ করা হয়। এই স্লাইডটিতে ঐতিহাসিক সেই প্রেক্ষাপট এবং ১৯৭১ সালের ১৬ই নভেম্বর মহান মুক্তিযুদ্ধে বীর মুক্তিযোদ্ধা জগৎজ্যোতি দাসসহ ১১ জন গ্রামবাসীর আত্মত্যাগের বীরত্বপূর্ণ স্মৃতি চমৎকারভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

স্লাইড ১২: একনজরে ভ্রমণ ও হাওর পর্যটন ভিজ্যুয়াল বিবরণ: বর্ষাকালে পানিতে নিমজ্জিত দিগন্ত বিস্তৃত হাওরের দৃশ্য এবং প্রাচীন নদীবন্দর বা চৌকি আদালতের ছবি। ক্যাপশন: পর্যটকদের জন্য আজমিরীগঞ্জ উপজেলার অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হলো বর্ষাকালের অপরূপ 'হাওর পর্যটন' (Haor Tourism), যখন চারপাশের প্রান্তর এক বিশাল সাগরের রূপ ধারণ করে। এই স্লাইডে হাওরের মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি প্রাচীনকালের শতবর্ষী 'চৌকি আদালত' (Chouki Court) এবং ঐতিহাসিক নদীবন্দরের (River Port) চিত্র তুলে ধরা হয়েছে, যা ভ্রমণপিপাসুদের এক অনন্য নদীমাতৃক বাংলার অভিজ্ঞতা প্রদান করে।

স্লাইড ৯: স্মার্ট শিক্ষা ও ডিজিটাল ল্যাব ভিজ্যুয়াল বিবরণ: আজমিরীগঞ্জের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ল্যাবে ল্যাপটপ ব্যবহাররত শিক্ষার্থী এবং ডিজিটাল এডুকেশন আইকন। ক্যাপশন: ডিজিটাল বাংলাদেশ থেকে স্মার্ট বাংলাদেশের পথে আজমিরীগঞ্জ উপজেলার শিক্ষার্থীদের এগিয়ে নিতে গত ১৫ বছরে এখানকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে 'শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব' স্থাপন এবং শতভাগ বিদ্যুতায়ন সম্পন্ন করা হয়েছে। এই স্লাইডে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের চমৎকার একটি ভিজ্যুয়াল দেওয়া হয়েছে, যা প্রমাণ করে কীভাবে তৃণমূল পর্যায়ের ছেলেমেয়েদের কোডিং, প্রোগ্রামিং ও আইসিটিতে দক্ষ করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের উপযুক্ত হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে।

৪.৮

১০৫ জনমত

উন্নয়ন কেমন দেখছেন?